সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে করোনা আইসোলেশনে প্রেমে মজেছে তরুণ-তরুণী!

৪:৫৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ৮, ২০২০ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, জয়পুরহাট- মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখার নিয়ম করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া রোগীর কাছে কেউ যেতে পারবেন না। কিন্তু জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার এক ব্যক্তি এই নিয়ম মানছেন না।

নিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকার পরও তিনি উপজেলার গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হওয়া তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন। চিকিৎসকেরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি।

শুধু তাই নয়, ওই আইসোলেশন ইউনিটে দ্বিতীয় তলায় ভর্তি থাকা এক তরুণী তৃতীয় তলার এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অথচ তাদের এখানে রাখা হয়েছে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। অনেকবার নিষেধ করার পরও আইসোলেশনে থাকা ওই তরুণ ও তরুণী তাদের নিজ নিজ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।

ওই দুটি ঘটনার বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও গোপীনাথপুর ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ইউনিটের দায়িত্বে থাকা ডা. শেখ শাহিন রেজা।

গত বুধবার রাতে ‘জয়পুরহাটের করোনা রোগীদের মজার ঘটনা!’ শিরোনামে ওই পোষ্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আক্কেলপুরের কাপলের এক মজার ঘটনার অবতারণা হয়েছে। বউ করোনা পজিটিভ স্বামী নেগেটিভ। বউকে নিয়ে আসা হইছে স্বামীও সঙ্গে আসছে। তাকে জয়পুরহাটের quarantine এ পাঠানোর কথা। অতঃপর স্বামী বউকে জড়িয়ে ধরে আর ছাড়ে না। সে তাকে ছাড়া থাকবে না। সেকোনো অবস্থাতেই বউকে রেখে জয়পুরহাট যাবে না। এদিকে CS Office থেকে তা মানছে না.. কিয়েক্টাবস্থা। শেষ পর্যন্ত আমি তারে রাখতে বাধ্য হলাম।

এদিকে আইসোলেশনে দোতলায় থাকা এক কন্যা তিন তলায় থাকা এক যুবকের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। সারাদিন তারা ব্যালকনিতে প্রেমালাপ করে। যতই বলি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। কে শোনে কার কথা। প্রেম নাকি অন্ধ। ওসব করোনা ফরোনা মানে না। এদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি মাইরি। আল্লাহ রক্ষা করুন। করোনা মুক্তি পাক। প্রেমিক জুটি নিপাত যাক।’

ফেসবুকের এই পোস্টের সত্যতা চিকিৎসক শাহিন রেজা নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। ডা. শাহিন রেজা বলেন, বুধবার রাতে করোনায় আক্রান্ত এক নারীকে এখানে আইসোলেশন ইউনিটে আনা হলে তার স্বামীও তার সঙ্গে আসেন। তারা এক সঙ্গে আইসোলেশনে থাকতে চান। স্বামী কিছুতেই তার স্ত্রীকে একা আইসোলেশন সেন্টারে রাখতে সম্মত হননি। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তাদের দুজনকে আইসোলেশনে রাখতে বাধ্য হয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন সেলিম মিঞা বলেন, করোনায় আক্রান্ত এক নারীকে বুধবার রাতে আইসোলেশন ইউনিটে আনা হলে তার স্বামীও তার সঙ্গে চলে আসেন। এ ঘটনাটি আমি পরে জেনেছি। স্বামী যেহেতু স্ত্রীকে ছাড়া থাকতে চাচ্ছে না, সেহেতু তাদেরকে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা দেওয়া যেত। যেহেতু আইসোলেশন সেন্টারে তার স্বামী চলেই এসেছে সেহেতু তাকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে এবং তার স্বামীর রিপোর্ট নেগেটিভও এসেছে। তবে স্বামীকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।