সংবাদ শিরোনাম
আম্পানে সুন্দরবনের ক্ষতি বুলবুলের চেয়ে ‘৩ গুণ’ বেশি | মাংস কিনতে গিয়ে এন‌জিও কর্মী নিখোঁজ, ঈদের দিন মিলল মরদেহ | আম্পানে ভেসে গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মানুষের ঈদ, এখন চলছে বেঁচে থাকার যুদ্ধ | আড়াই মাসে সর্বনিম্ন প্রাণহানি দেখলো ইতালি | সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানালেন খালেদা জিয়া | ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত | গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ট্রায়াল স্থগিত | গাজীপুরে ঈদের নামায এবং বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে যুবক খুন | দাফনের টাকা নিয়েও তিস্তায় ভাসিয়ে দেওয়া হল করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের লাশ | কিট সংকটে নোবিপ্রবির ল্যাবে করোনা পরীক্ষা বন্ধ |
  • আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতির মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেফতার

১২:৩২ অপরাহ্ণ | শনিবার, মে ৯, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি মামলায় ভোলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার রাতে ভোলার গাজীপুর রোডের বাসা থেকে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গ্রেফতার করে রাজধানীর তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তাকে সড়কপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জালিয়াতির ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গতকাল শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুবাইয়াত জামান গণমাধ্যমকে বলেন, জালিয়াতির এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে ৫ মে তরিকুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা ও ফরহাদ নামে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় তরিকুলকে ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রফিকুল আলমের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়।

এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপরেই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা।

মামলায় বলা হয়, এরপরেই সেই নথিতে তরিকুল ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। প্রায় এক মাস আগে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

এই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং হস্তান্তরের পরে আরেক দফায় ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে নেন বলে মামলায় বলা হয়।

প্রায় এক মাস আগের ঘটনা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে মামলা দিতে দেরি হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

এই মামলায় শুক্রবার তরিকুলের সঙ্গে ফরহাদ ও নাজিম উদ্দিন নামে দুজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নাজিম উদ্দিনের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এসেছে বলে আদালত পুলিশের কর্মকর্তা এসআই ফরিদ মিয়া জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ভোলা থেকে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গ্রেফতারের পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, “মুমিনের বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এই অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”