সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনার হটস্পট কাঁচাবাজারগুলো, তবুও মানুষের উপচেপড়া ভিড়!

১:২৮ অপরাহ্ন | শনিবার, মে ৯, ২০২০ ফিচার

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে করোনা সতর্কতার বালাই নেই। প্রতিদিন সকালে কাঁচাবাজারগুলোতে দেখা যায় শত শত মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারকে করোনা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করলেও কাঁচা বাজারগুলোতে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনার ছিটে-ফোঁটাটুকুও মানছেন না অনেকেই।

রাজধানীর মিরপুরের কাঁচাবাজার, কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ দেশের জেলাশহর গুলোর সকল বাজারগুলির পরিবেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

একদিকে দেশের বিশেষজ্ঞমহল দাবি জানিয়ে বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর প্রথম কৌশল সামাজিকভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। এ সময় ভালো খাবার খেতে শখে বাজারে যাওয়া উচিত নয়। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, ঘরে থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রথমদিকে করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হতে বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ চিহ্নিত করা হলেও পরবর্তীতে নিয়মিত গবেষণায় বেড়িয়ে এসেছে নতুন নতুন সতর্কবার্তা। অব্যহত গবেষণায় নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে বিশেষ কিছু সুনির্দিষ্ট উপসর্গ পরিলক্ষিত হওয়ার কথা থাকলেও অনেকের মধ্যে হালকা উপসর্গ থাকে।

এমনকি আক্রান্তদের অনেকেই থাকতে পারেন উপসর্গহীন । তারা হয়তো অসচেতনতা বশতঃ সাধারণ মানুষের ভিড়ে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সকলের অজান্তে তাদের সংস্পর্শে কেউ আসলেই অপর ব্যাক্তিটিও আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মাধ্যমে একটি একটি পরিবারের মাঝে ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা। দেশে ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত মোট রোগীদের অর্ধকেই রাজধানী ঢাকার। এর মধ্যে মিরপুরেই উল্লেখযোগ্য করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে মিরপুরে। ফলে কয়েক আগেই রাজধানীর করোনা হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল মিরপুর এলাকাকে।

মিরপুর-১ এলাকায় করোনা শনাক্ত রোগীদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। করোনা আক্রান্ত মিরপুর-১ নম্বর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক প্রকৌশলী (৩০) তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে জানান, গত গত ১৮ এপ্রিল তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সপ্তাহে একবার করে বাজার করেন তিনি। সম্প্রতি বাসা থেকে সবজি, মাছ, মাংস কেনাকাটা করতে কাঁচাবাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পাঁচ দিন পর থেকে জ্বর অনুভব করেন। শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুষ্ক কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। উপসর্গ দেখে করোনা সন্দেহে পরীক্ষার পর তার এবং তারর মায়ের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এরপর থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

অপরদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীসহ গোটা দেশের বিরাট একটি অঞ্চল লকডাউন ঘোষণা করা হলেও অজ্ঞতাবশত অনেকে বিষয়টিকে একরকম উৎসব ভেবে নিয়মিত বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হচ্ছেন।

রাজধানীর কাঁচাবাজাগুলো সবসময় জনবহুল ও পরিবেশ ঘিঞ্জি হওয়ায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এমনিতেই বেশি থাকে। একদিকে করোনা থাবায় একশ্রেণির অসহায় দুস্থ মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনপাত করছে, অপরদিকে সামর্থ্যবানদের লেগেছে কেনাকাটার ধুম।

৮ এপ্রিল (শুক্রবার) সরেজমিনে গিয়ে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরস্থ সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে মাজার রোড বাজারে দেখা যায়, মূল সড়ক জুড়ে সারি সারি দোকান। দোকানগুলোর মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই। অধিকাংশ দোকানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সামাজিক দুরত্বের বালাই নেই। অনেকের মুখেই নেই মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব না মেনে কেনাকাটা করছেন তারা। ভিড় ঠেলে ধাক্কাধাক্কি করে সবজি, মাছ, ফল কিনছেন ক্রেতারা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সকলকে সচেতন হতে নিয়মিত এলাকাজুড়ে মাইকিং করলেও তা গায়ে লাগাচ্ছেন না ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেউই।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখবো। এমনটি হয়ে থাকলে তা কোনভাবেই আশানুরূপ নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।