সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘের বৈঠকে তোলার প্রতিশ্রুতি তুরস্কের


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন তরান্বিত করতে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেবলুৎ সাবুসোলু।

তিনি শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সাথে ফোনে আলাপকালে এ প্রতিশ্রুতি দেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে তুরস্ক সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন পরবর্তী বছর ডি-৮ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য মহাপরিচালক পর্যায়ের কমিশনারদের ভার্চুয়াল সেশন আয়োজনের অনুরোধ জানান। সেই সাথে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে অথনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ডি-৮ এর একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করেন।

বর্তমানে তুরস্ক ডি-৮ এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

স্বল্পোন্নত দেশের জন্য জি-২০ এর বরাদ্দকৃত ৭ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাংলাদেশ যেন সহযোগিতা পায় সে বিষয়ে সংগঠনের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তুরেস্কের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন ড. মোমেন।

তিনি ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে দেয়া ‘কোভিড-১৯ রিকভারি অ্যান্ড রেসপন্স ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেন।

ড. মোমেন উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশের শ্রমিকদের অনেকে আর্থিক ও খাদ্য সংকটে আছেন। বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন তাদের চাকরি বহাল রাখতে পারে সে বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তাছাড়া যদি কোনো শ্রমিক দেশে ফেরত আসেন তবে তারা যেন কমপক্ষে ৬ মাসের বেতনের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা পায় সে বিষয়ে তিনি তুরস্কের সহযোগিতা চান।

করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক খাত সমস্যায় রয়েছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা যাতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ বাতিল না করেন সে বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেন।

করোনা পররবর্তী পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে একত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে ড. মোমেনের প্রস্তাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়াতে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে ১ লাখ সার্জিক্যাল মাস্কসহ এন-৯৫ মাস্ক সহায়তা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাজ্যহীন গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বাসভূমি মিয়ানমারের সরকার তাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেয় না এবং দীর্ঘ সময় ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়ে আসছে।

২০১৭ সালে ২৫ আগস্টের পর দলে দলে রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর থেকে উখিয়া ও টেকনাফে বিভিন্ন স্থানে সাড়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস করছেন। অবৈধভাবে আসা এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার বিভিন্ন সময়ে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে আজ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।

◷ ১০:৩৫ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, মে ৯, ২০২০ ফিচার