স্বামীকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করালেন আ.লীগ নেত্রী

১:৫৬ অপরাহ্ন | রবিবার, মে ১০, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

সময়ের কণ্ঠস্বর, সিলেট- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় স্বামীসহ সুমি বেগম (৩০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল শনিবার ভোররাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন র‍্যাব-৯-এর সদস্যরা।

গ্রেপ্তার সুমি বেগম জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাঁর স্বামী নিজপাট এলাকার কমলাবাড়ী মোকামটিলা এলাকার বাসিন্দা কয়েছ আহমদ (৩৫)।

ভিকটিম তরুণীর বাড়িও একই গ্রামে। সে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সমাজ কল্যাণ বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ও সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির এলএলবি প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। সুমী ও তার স্বামী সম্পর্কে ওই তরুণীর খালা ও খালু।

পুলিশ জানায়- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্রী করোনা ভাইরাসের কারনে নিজ গ্রাম কমলাবাড়িতে অবস্থান করছিলো। আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা ও সুমি বেগম সম্পর্কে ভিকটিমের খালা হয়। এ কারনে বাড়িতে থাকলে প্রায় সময় সুমি ওই ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে বসে গল্পগুজব করতো। গত ২রা মে সুমি বেগম ওই ছাত্রীকে ইফতারির দাওয়াত দেয় কিন্তু সে যেতে রাজি ছিলেন না। সুমি বেগম ছাত্রীর পিতা-মাতাকে বলে তাকে ইফতারের কিছু আগে বাড়ি নিয়ে যায়।

ইফতার শেষে কিছু সময় বিশ্রাম করার পরে রাত অনুমান ৮টায় সুমি বেগম কৌশলে চায়ের সাথে নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে খেতে দেয়। চা খাওয়ার পরে অচেতন হয়ে পড়লে আসামি সুমি বেগমের সহায়তায় তার স্বামী কয়েছ আহমদ ধর্ষণ করে এবং উলঙ্গ অবস্থায় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ঘণ্টাখানেক পর ওই ছাত্রীর চেতনা ফিরে এলে আসামি কয়েস আহমদকে পাশে দেখতে পায় ওই ছাত্রী।

এ সময় সে চিৎকার করলে আসামি কয়েস আহমদ ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে রাখে। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুক্ত হয়ে তার পিতা মাতাকে খবর দেয়। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। এবং জৈন্তাপুর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।

পরে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলা রেকর্ড করলে সুমি ও কয়েস বাড়ি ছেড়ে পালায়। মামলা রেকর্ডের পর আসামিদের ধরতে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তাদের খোজ পায়নি। তাদের ধরতে অভিযানে শুরু করে র‌্যাবও।

গতকাল র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়- শুক্রবার দেড়টায় সিলেট থেকে নারীলোভী লম্পট কমলাবাড়ী মোকামটিলা গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে কয়েস আহমদ ও তার স্ত্রী সুমি বেগমকে আটক করা হয়।

জৈন্তাপুর থানার ওসি শ্যামল বনিক জানান, সুমি মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পরিচয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কয়েছের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।