• আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ঠেকাতে কুয়েতে চলছে ২০ দিনের কারফিউ

৮:৪৪ পূর্বাহ্ন | সোমবার, মে ১১, ২০২০ আন্তর্জাতিক
kuy

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কুয়েতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একটানা ২০ দিনের জন্য লকডাউন ও কারফিউ শুরু হয়েছে। রোববার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন ১৬ ঘন্টা করে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সরকারি মুখপাত্র তারিক মিজরিম।

কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে তারিক মিজরিম বলেন, কুয়েতের মন্ত্রী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে আজ ১০ মে থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সম্পূর্ণ কুয়েতকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

কুয়েত সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২ মাস যাবৎ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, বিমান চলাচল, বাস চলাচল, দোকানপাট বন্ধসহ মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

গত ৬ মার্চ থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত মাহবুলা ও জেলিব সুয়েখ এলাকায় চলছে লকডাউন। এছাড়া ২০ এপ্রিল থেকে কুয়েতে ১৬ ঘণ্টার কারফিউ বলবৎ ছিল। দিনের পর দিন বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও কিছুতেই থামছে না সংক্রমণ। তাই সরকারের এই নির্দেশনা। তবে সম্প্রতি দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার একটানা কারফিউ জারির ঘোষণা দেওয়া হলো।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিভিন্ন পণ্যের হোম ডেলিভারীসহ গণমাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাতকার আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

শুধুমাত্র মন্ত্রীসভা কর্তৃক নির্ধারিত ঠিকাদার, সমবায় সমিতি, খাবারের দোকান এবং ফার্মেসীগুলো খোলা থাকবে।কুয়েতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জনগণকে উদ্বিগ্ন না হতে অনুরোধ করে জানিয়েছেন, দেশটিতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে।

কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম বলেন, দেশটির করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ১০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির অবস্থা অন্যদের তুলনায় বেশি খারাপ। দূতাবাসের পক্ষ থেকে এসব কর্মহীনদের ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দেয়া আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি আমরা কুয়েতের বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা ও ব্যবসায়ী থেকে সহায়তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার প্রবাসীকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং আরও ৫ হাজার প্রবাসীকে ত্রাণের আওয়তায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।