ফোন কেনার টাকার জন্য শিশুকে অপহরণ, পরে গলাকেটে হত্যা

১১:৫৬ পূর্বাহ্ন | সোমবার, মে ১১, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অপহরণের ২দিন পর পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলায় বন বিভাগের বেত বাগান থেকে ৫ বছরের শিশু মোবাশ্বের হোসেনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সিয়াম হোসেন মিঠু নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। সে ওই এলাকার আশিকুর রহমান স্বপনের ছেলে। মিঠু ভাউলাগঞ্জ হাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

মোবাশ্বের দেবীগঞ্জের চিলাহাটি ইউনিয়নের নায়েকপাড়া এলাকার আলম হোসেনের ছেলে। মোবাশ্বেরকে গত শুক্রবার থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

একইদিন সকালে প্রতিবেশীরা সাইকেলে মোবাশ্বেরকে সাথে নিয়ে মিঠুকে ভাউলাগঞ্জের দিকে যেতে দেখে। মোবাশ্বেরের পরিবার মিঠুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেও সে অস্বীকার করে। শনিবার সকালে শিশুটির বাবা আলম হোসেন দেবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই দিন রাতেই আলম হোসেন মিঠুকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করে।

রাতেই পুলিশ মিঠুকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু মোবাশ্বেরকে অপহরণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসা থেকে ৪ কি.মি. দূরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ডোমার থানা পুলিশের সহয়তায় ডোমারের ভোগডাবুরি ইউনিয়নের সবদিগঞ্জে বন বিভাগের বেত বাগান থেকে মোবাশ্বেরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, গ্রেপ্তার কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ওই শিশুকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্য মতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ধারালো দা দিয়ে গলাকেটে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। যে দা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত শিশুর বাবা শনিবার রাতে অপহরণের মামলা করেছিলেন। সেই মামলাটিই এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়েছে। আসামিকে আজ (সোমবার) আদালতে হাজির করা হবে।

ওসি জানান, পারিবারিক কোন শত্রুতার জের পাওয়া যায় নি। দামি ফোন কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করতে চেয়েছিল মিঠু। কিন্তু বেত বাগানে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মোবাশ্বেরকে হত্যা করে মিঠু।