সংবাদ শিরোনাম
আম্পানে সুন্দরবনের ক্ষতি বুলবুলের চেয়ে ‘৩ গুণ’ বেশি | মাংস কিনতে গিয়ে এন‌জিও কর্মী নিখোঁজ, ঈদের দিন মিলল মরদেহ | আম্পানে ভেসে গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মানুষের ঈদ, এখন চলছে বেঁচে থাকার যুদ্ধ | আড়াই মাসে সর্বনিম্ন প্রাণহানি দেখলো ইতালি | সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানালেন খালেদা জিয়া | ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত | গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ট্রায়াল স্থগিত | গাজীপুরে ঈদের নামায এবং বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে যুবক খুন | দাফনের টাকা নিয়েও তিস্তায় ভাসিয়ে দেওয়া হল করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের লাশ | কিট সংকটে নোবিপ্রবির ল্যাবে করোনা পরীক্ষা বন্ধ |
  • আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘আমাগো পিপিই নাই, করোনা ঠেকাইতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি’

৯:১৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১১, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: আমরা রাইত দিন করোনা ঠেকাইতে মাঠে কাম করছি। আমাগো জীবনের তো নিরাপত্তা নাই। আমাগো জীবন রক্ষার কোনও উপকরণ (পিপিই) নাই। হেরপর লকডাইনে আমরাও অভাবে আছি। আমাগো গ্রাম পুলিশের কতা কেউ তো ল্যাখেনা।

পিরোজপুরের কাউখালীতে করোনা সংকটে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত করোনা যোদ্ধা গ্রাম পুলিশ পঞ্চাশোর্ধ বয়সি আব্দুল মান্নান এমন আক্ষেপের কথা বলেন।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলার ৪৯ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য। একদিকে লকডাইনে পরিবারে অভাব আর অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংকটের শুরু থেকে মাঠে নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন এসব গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

জানাগেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তালিকা তৈরি ও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের নজরদারি, সামাজিক দুরত্ব সম্পর্কে সচেতন করাসহ অন্যান্য সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

এছাড়া সন্ধ্যায় বিভিন্ন অলিতে-গলিতে, মোড়ে-মোড়ে দোকান পাট বন্ধ রাখা ও বাজারে লোকজনের ভিড় কমাতে যেমন কাজ করছে তেমনি জিআর, ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম যেগুলোতে প্রচুর পরিমানে ভিড় হয় সেখানেও দায়িত্ব পালন করছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ ছাড়া এসব দায়িত্ব পালন করার কারণে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অন্যদের তুলনায় অধিক পরিমাণে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলায় কর্মরত আছেন মোট ৪৯ জন গ্রাম পুলিশ।

বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ বাহিনী কর্মচারী ইউনিয়ন পিরোজপুর জেলার সভাপতি দফাদার আঃ মান্নান জানান, করোনা বিস্তার রোধে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। আমাদের কোনো সুরক্ষা উপকরণ নেই। সামান্য বেতনে চাকরি করি করোনা আক্রান্ত হলে পরিবারের কি হবে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন?

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন করছি সারা বাংলাদেশের ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের ৬ হাজার ৫ শত এবং ৭ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ থাকলেও ইউপি অংশের অর্ধেক বেতনের টাকা করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ মাস পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। যাহা ১% পরিবর্তে ২% নির্ধারণ করে বেতন পরিশোধের জন্য অনুরোধ করছি এবং আগামী জাতীয় বাজেটে গ্রাম পুলিশ বাহিনীকে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে যেন অর্ন্তভূক্ত করা হয়।

উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের আবেদন গ্রাম পুলিশদের জন্য যেন সুরক্ষা উপকরণসহ ঝুঁকি ভাতা, স্বাস্থ্য বীমা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়।