সর্বোচ্চ সংক্রমণের দিনে লকডাউন শিথিল করলো রাশিয়া

১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালি এবং ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে গেছে রাশিয়া। এদিকে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই তালিকায় বর্তমানে রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায়আক্রান্ত হয়েছে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৫৬ জন এবং মারা গেছে ৯৪ জন। তবে রেকর্ড সর্বোচ্চ আক্রান্ত হওয়ার দিনই রাশিয়ায় লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ মঙ্গলবার থেকে রাশিয়ায় লকডাউন শিথিল কার্যকর হবে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা তাস এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

খবরে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতেই রাশিয়ায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে শর্তসাপেক্ষে লকডাউন শিথিলের কথা জানিয়েছেন তিনি। শর্তসাপেক্ষে আজ থেকে সাধারণ নাগরিকরা কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারবে।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘আগামীকাল ১২ মে থেকে শুরু হয়ে পুরো দেশ এবং সমস্ত অর্থনৈতিক খাতের এককালীন অকার্য দিবসের সমাপ্তি হবে।’

পুতিন আরও জানান, ‘আমাদের সামনে একটি দীর্ঘ এবং কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই ধাপে ধাপে এই লকডাউন তুলে নেওয়া হবে।’

তবে একইসঙ্গে তিনি রাশিয়ার যেসব অঞ্চলে এখনো করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেশি সেসব অঞ্চলে কঠোর লকডাউন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তার দেশে বড় ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণকে যথারীতি করোনা মোকাবিলার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গত ছয় সপ্তাহের লকডাউনের কারণে রাশিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে পেরেছে বলেও জানান ভ্লাদিমির পুতিন।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রথমদিকে রাশিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত কয়েকদিনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এছাড়া, দেশটিতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।