সংবাদ শিরোনাম
করোনায় দেশে পারিবারিক আয় কমেছে ৭৪ শতাংশ, চাকরি হারিয়েছেন ১৪ লাখ প্রবাসী | ‘যে ওষুধ সাধারণদের কেনার সামর্থ্য নেই, সেই ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করব না’ | প্রতিবন্ধী বাবার প্রতিবন্ধী মেয়ে জাহানারা পেলেন জিপিএ-৫ | তানোরে এবার ঢাকা ফেরত দম্পতি করোনায় আক্রান্ত | নওগাঁয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কাপড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু | চট্টগ্রামে ৬২১ নমুনা পরীক্ষায় ২০৮ জনের করোনা পজিটিভ | লালমনিরহাটে দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড | করোনা আক্রান্ত মোহাম্মদ নাসিমকে আইসিইউতে স্থানান্তর | ভূঞাপুরে বিল সাঁতরে কৃষকের স্বপ্নের ধান বাড়িতে পৌঁছে দিলো ছাত্রলীগ | স্ত্রীর মামলায় স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও দেবর গ্রেফতার |
  • আজ ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হলো মাশরাফির ‘ভালোবাসার’ ব্রেসলেট

৯:০৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, মে ১৮, ২০২০ খেলা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- স্টিলের সামান্য এক ব্রেসলেট, মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গী হয়ে সেটিই হয়ে উঠেছে অসামান্য। মাশরাফির ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেটের ওজন কতটা, বোঝা গেল নিলামে। যেটির ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা, নিলামে তুমুল আগ্রহ ও লড়াই শেষে সেই ব্রেসলেট বিক্রি হলো ৪২ লাখ টাকায়!

করোনা যুদ্ধে শামিল হতে সম্প্রতি প্রিয় এই ব্রেসলেট নিলামে তুলেছিলেন মাশরাফি। রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা ছিল নিলামের সময়। আয়োজক ছিল ‘অকশন ফর অ্যাকশন’। নিলামের সময় শেষেই লাইভে ব্রেসলেটের চূড়ান্ত দাম জানানোর কথা ছিল তাদের। কারিগরি সমস্যায় লাইভে আসতে প্রায় ঘন্টাখানেক দেরি হয়। উপস্থাপকেরা জানান, মাশরাফি এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন।

উপস্থাপকদের একজন জানান, আজ সকাল থেকে দাম লাখে লাখে বেড়েছে। লাইভ শুরুর কিছুক্ষণ পর সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫ লাখ টাকা। এক পর্যায়ে লাইভে আসতে সমর্থ হন সাদা টুপি ও টি-শার্ট পরা মাশরাফি।

ব্রেসলেটটির ইতিহাস নিয়ে তিনি জানান, ‘ছোটবেলা থেকে দুটি জিনিসের প্রতি আগ্রহ ছিল আমার। ব্রেসলেট ও সানগ্লাস। বাবার ভয়ে পড়তে পারতাম না। যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করলাম, তখন প্রথম ব্রেসলেট পড়া শুরু করি। ভাবলাম এখন হয়ত বাবা-মা কিছু বলবে না। ডাইভ দিতে গিয়ে হাত থেকে পড়ে যায় সেটি। বেশিদিন পড়তে পারিনি। আমার এক বন্ধুকে বললাম একটা ব্রেসলেট তৈরি করে দে। স্টিলের একটা জিনিস। বন্ধুর মামা বানিয়ে দিয়েছিল। খুলেছি খুব কম সময়ই। ১৮ বছর ধরে এটা আমার সুখ-দুঃখের সঙ্গী। কয়েকটা ম্যাচে লাল-সবুজ ব্যান্ড পরা হয়েছে।’

মাশরাফি এ কথাগুলো বলার মাঝে নিলামে তাঁর ব্রেসলেটের দাম ১৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এক ফাঁকে যোগ দেন মাশরাফির জাতীয় দল সতীর্থ তামিম ইকবাল। তাঁর সঙ্গে আলাপের মাঝে দাম চড়া শুরু হয় নিলামের। এক পর্যায়ে ১৮ লাখ থেকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার সেখান থেকে ২৩ লাখ।

চমকের এখানেই শেষ নয়। আলাপচারিতার এক ফাঁকে উপস্থাপক জানান, এক ব্যবসায়ী মাশরাফির ব্রেসলেটের দাম হেঁকেছেন ৩০ লাখ টাকা। সেখান থেকে দাম ওঠে ৪২ লাখ টাকা। মাশরাফি জানান, নিলামে পাওয়া টাকা তিনি নড়াইল এবং তার বাইরের এলাকায় নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেবামূলক কাজে লাগাবেন।

শেষ পর্যন্ত ৪২ লাখ টাকায় মাশরাফির ব্রেসলেট কিনে নেন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে লাইভ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মুমিনুল ইসলাম। দাম চূড়ান্ত হওয়ার পর মাশরাফি তাঁর হাত থেকে ব্রেসলেটটি খুলে ফেলেন। এরপরই বড় চমকটা হাজির করেন মুমিনুল। তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাশরাফিকে ‘উপহার’ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সেটিও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

মাশরাফি জবাব দেন, সে অনুষ্ঠান হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি হাত থেকে ব্রেসলেট খুলে রাখবেন। অনুষ্ঠানে পরিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত ওটা হাতে উঠবে না। মুমিনুল বলেন, আপাতত ওটা আপনার (মাশরাফি) জিম্মায় রইল।

ক্রিকেটারদের মধ্যে মাশরাফির আগে স্মারক নিলামে বিক্রি করেছেন সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, মুশফিকুর রহিম ও আকবর আলী। তবে করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিলামে তোলা ক্রীড়াসরঞ্জামের মধ্যে মাশরাফির ব্রেসলেটেই সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলো।