উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ‘আম্ফান’, বাগেরহাটে ২৩৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

৭:৪০ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১৮, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবন উপকূলে ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। এর প্রভাবে সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপকূলীয় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন।

মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে জেলার সকল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, ‘মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই জরুরী সভা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। মাঠে থাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থাকার মতো করে ৩৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়ের সুবিধার্খে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি রাখতে বলা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ি মোংলা বন্দরে স্থানীয় ৪ নম্বর হুশিঁয়ারি সংকেত জারি রয়েছে। বন্দরে বর্তমানে সার, ফ্লাইএ্যাশ, কয়লাবাহীসহ মোট ১১টি দেশি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। বিকেল নাগাদ আরও নতুন চারটি জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে। বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজগুলোতে পণ্য ওঠানামার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বন্দরে একটি ঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঝড় মোকাবেলায় বন্দরের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক রঘুনাথ কর জানান, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ৫২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চারটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৯৭টি রিপার, হ্যান্ড রিপার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে মাঠের ৮৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানার আগে মাঠে থাকা বাকি ১৫ ভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। স্ব স্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করছেন। দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই সব ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবস্থা প্রতিকূল হলে দুবলার চরে জেলেদের মাছ ধরতে অনুমতি দেয়া হবেনা। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।