ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: উপকূলে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া

৬:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। এর প্রভাবে সুন্দরবনের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট উপকূলজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। শুধু বৃষ্টি নয় কোথাও কোথাও বৃষ্টি সাথে ঝড়ো হাওয়া বইছে।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টি শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড় সতর্কতায় মাইকিং ছাড়াও সিপিপি মোংলায় বিভিন্ন পয়েন্টে ১৩২টি সিগনাল পতাকা উত্তোলন করেছে।

সকাল থেকে রোদ থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে মানুষ দিকবিদিক ছোঠাছুটি করছে। মাঠের পাকা ধান ও বাড়ির ওঠোনে শুকানোর জন্য রাখা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক পরিবারগুলো। শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। সতর্ক সংকেতে ভয়াবহ বার্তা পরিবেশন করায় উপকূলবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। মাটি, ছন ও টিনের ঘরের বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা সব থেকে বেশি।

কোষ্টগার্ড মোরেলগঞ্জ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ৭নং বিপদ সংকেত ঘোষণার পরেই পানগুছি নদীতে সার্বক্ষণিক চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। কয়েকটি সমুদ্রগামী ট্রলার ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এইচএম মাহমুদ আলী জানান, সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবার জন্য মাইকিং করছি। মেম্বর, চৌকিদারদের মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বলা হচ্ছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, উপজেলার ১৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ঝড়ের ক্ষয় ক্ষতি কমাতে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০০ মন মুড়ি, ২৭ মন চিড়া, ৬০ মন চিনি মজুদ করা হয়েছে। সকল আশ্রয় কেন্দ্রে করোনা প্রতিরোধক সরঞ্জামও মজুদ করা হয়েছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এ উপজেলায় লোক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। সুপার সাইক্লোন আম্ফান মোকাবেলা ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পুলিশ, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, গ্রাম পুলিশ ও স্কাউটস সদস্যদের সমন্বয়ে ১০ দ্রুত উদ্ধারকারী দল গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে ১৭টি।

মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম জানান, দুর্যোগে আইনশৃংখলা যাতে অবনতি না হয় এছাড়া দুর্যোগে পড়া মানুষদের সহায়তার জন্য পুলিশ সদা প্রস্তুত রয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ জানান, ঘূর্নিঝড় আম্পান মোকাবেলায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। ৪১০টি ঘূর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি সুবিধাজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছি। এই নিয়ে আমাদের মোট ৯৭৭ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৭ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। সার্বিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য ১০ টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ৮৪ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় শুকনো খাবারের ব্যবস্থা রেখেছি আমরা।