ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে যশোরে ১২ জনের মৃত্যু

⏱ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, মে ২২, ২০২০ 📂 খুলনা
aam

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে যশোর জেলায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া গাছপালা ভেঙে পড়ে ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই জেলায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসন ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের তথ্যে বাকি ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, অনেক উপজেলায় এখনো বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও মৃত্যু ঘটতে পারে।

পুলিশের বিশেষ শাখার হিসাব অনুযায়ী নিহতরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের খোকন দাস (৭০), তার স্ত্রী বিজন দাস (৬০), ওয়াজেদ আলী (৫০), তার ছেলে ইসা (১৫) ও আছিয়া বেগম (৭০), শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের ময়না বেগম, সামটা জামতলার মুক্তার আলী (৬৫), মহিপুড়া গ্রামের মিজানুর রহমান (৬০) ও মালোপাড়ার গোপালচন্দ্র বিশ্বাস, চৌগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের ক্ষ্যান্ত বেগম (৪৫), তার মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩) এবং বাঘারপাড়ার বোধপুর গ্রামের ডলি বেগম (৪৮)।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিভিন্ন এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সবজি, আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়ে গেছে বিধায় ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গৃহ বা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. আকতারুজ্জামান বলেন, জেলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতি হওয়া ফসলের মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমির পাট; ১১ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমির সবজি, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। এছাড়া ৭৫০ হেক্টর জমির পেঁপে, দেড় হাজার হেক্টর জমির কলা, ৬৭৫ হেক্টর জমির মরিচ, ৩ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমির আম, ৬০০ হেক্টর জমির লিচু এবং ১ হাজার হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মাঠে থাকা ফসল ও ফলের ৭০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান জেলার এই কর্মকর্তা।