• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

বেতন নেই, কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে ৯ শ্রমিকের গণ-আত্মহত্যা!

kuaaa
❏ শনিবার, মে ২৩, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনা লকডাউনে কর্মহীন, টানা দু’মাস বেতন বন্ধ। মানবেতর জীবন-যাপনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে গণ-আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলেন ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যেের ৯ শ্রমিক। পুলিশের দাবি সংকটে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন তারা।

তেলেঙ্গানার একটি গ্রামের কুয়ো থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন পশ্চিমবঙ্গের এবং একই পরিবারের। আর দু’জন বিহারের। একজন ত্রিপুরার।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটা গণআত্মহত্যা। ঘরে ফিরতে পারছিলেন না ওই শ্রমিকরা। দুই মাস ধরে জুটমিল ও অন্য কারখানা থেকে বেতন পাননি তারা। কারও শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। ফলে হত্যার ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। ঘরে ফিরতে না পারা, আশ্রয় হারানো এবং চরম আর্থিক সংকট নিয়ে সকলের অবস্থা ছিল কোণঠাসা।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ২০ বছর আগে গোরেকন্টার এক জুট মিলে কাজ পান পশ্চিমবঙ্গের মকসুদ আলম। কারখানার পাশে দুটি ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতেন। লকডাউনে তার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। বাসায়ও থাকতে পারেননি। তেলেঙ্গানার স্থানীয় এক দোকানদার নিজের গুদামে আশ্রয় দিয়েছিলেন তাদের। গুদামের কাছে ওই কুয়ো অবস্থিত। কুয়ো থেকে মিলেছে মকসুদ, তার স্ত্রী নিশা, দুই ছেলে সোহেল ও শাবাদ, মেয়ে বুশরা খাতুন এবং তিন বছরের নাতি শাকিলের মরদেহ।

খবরে বলা হয়, ত্রিপুরার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জুট মিলের গাড়ি চালাতেন। এ ছাড়া বিহারের শ্রীরাম ও শ্যাম অন্য একটি কারখানায় কাজ করতেন। তারা সকলে একই কুয়ায় কীভাবে মারা গেলেন, পুলিশ তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে।

বৃহস্পতিবার তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে সি রাও জানান, অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য ট্রেন-বাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। হেঁটে যেন কেউ বাড়ির পথ না-ধরেন। সে দিনই হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে গোরেকুন্টা গ্রামে কুয়া থেকে চার জনের দেহ উদ্ধার হয়। শুক্রবার মেলে আরও পাঁচ জনের।