করোনা মোকাবেলায় নিবেদিত প্রাণ এমপি ইসরাফিল আলম

১২:২২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০ রাজশাহী
isl

নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: বৈশ্বিক দুর্যোগ মরণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধে ও গরীব অসহায় মানুষের পাশে সাহায্যে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইসরাফিল আলমের দায়িত্বশীল কর্মতৎপরতায় উপজেলার সর্বমহলে প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন। নওগাঁর আত্রাইয়ে করোনা মোকাবেলায় নিবেদিত প্রাণ এমপি ইসরাফিল আলম।

এ ভাইরাস সংক্রমণ রোধ কল্পে ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনসচেতনতা সৃষ্টি, প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করণ, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট ও ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত এলাকায় নিজে মনিটরিং ব্যবস্থ্যা অব্যাহত রেখে নজির স্থাপন করেছেন এমপি ইসরাফিল আলম।

জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকেই সাংসদ ইসরাফিল আলমের নিজস্ব অর্থায়নে ও ইসরাফিল আলম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানবিক খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে প্রতিজন মানুষকে খাবার সামগ্রী হিসেবে ৫ কেজি চাল, দেড় কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, লবণ, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, সাবান, বিভিন্ন সবজিসহ অন্যান্য উপকরন বিতরন করা হয়। এছাড়াও উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যান, দলীয় নেকাকর্মীদের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মহীন মানুষদের তালিকা করে খাবার সামগ্রী ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছে দিচ্ছে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম এ পর্যন্ত পৌনে এক কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। করোনা ভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তার “মানবিক খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র” থেকে গত এক মাসে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

সারাদেশে করোনা ভাইরাস রোধে সামাজিক জন দূরত্ব বজায় রাখতে সকল প্রকার গণপরিবহন, হাট-বাজার বন্ধ করে দেয় সরকার। ফলে পরিবহন শ্রমিক, রিক্সা-ভ্যান চালক, চা ও খাবারের দোকান মালিকসহ গরীব অসহায় দুঃস্থ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। এসব কর্মহীন, দুস্থ্য ও অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে নিজ সংসদীয় এলাকার একজন মানুষও যেন অভুক্ত না থাকে সে লক্ষে রাণীনগরে “মানবিক খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র” খোলেন এমপি ইসরাফিল আলম।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অংঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী ও জন প্রতিনিধিদের সহায়তায় তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌছে দেয়া হয়। এছাড়া খুব সহজেই খাদ্য সহায়তা পেতে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশা পাশি হটলাইন, অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম চালু করা হয়। গত ২৯ মার্চ থেকে এসব সেবা চালু করে আত্রাই এবং রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১৯ হাজার চারশত পরিবারে চাল, ডাল, তৈল, লবন, কাঁচামরিচ, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, বেগুন ও সাবান বিতরণ করেন।

মানবিক খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের তথ্য মতে, গত এক মাসে প্রায় ৭৬ লক্ষ সাড়ে ২৬ হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন এমপি ইসরাফিল আলম। পাশা পাশি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, সেচ্চা সেবক ও সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাঁচ হাজার পিস সাধারণ মাস্ক, এক হাজার পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ছয় হাজার পিস সার্জিক্যাল মাস্ক, দুই হাজার পিস সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাবস, দুই হাজার পিস সার্জিক্যাল হেড ক্যাপ ও চারশত পিস পি’পি’ই বিতরণ করা হয়েছে। দূর্যোগকালীন সময়ে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে সহায়তা হিসেবে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে সবজি কিনে খাদ্য তালিকায় যোগ করেন এমপি ইসরাফিল আলম। সংক্রমন প্রতিরোধে দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবানসহ বেসিন স্থাপন এবং সচেতনতা বাড়াতে সাংসদের কণ্ঠে রেকর্ডকৃত বক্তব্য গ্রামে গ্রামে মাইকের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করেন তিনি।

সাংসদ মো: ইসরাফিল আলম বলেন, গত এক মাসে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১৯ হাজার চারশত পরিবারে ৭৬ লক্ষ সাড়ে ২৬ হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। বর্তমানে ধান কাটা-মাড়াই মৌসুম চলছে। এই সময়ে অধিকাংশ দরিদ্র ও শ্রমিকরা কাজ কর্ম করে খাদ্য ঘার্তি নিবারণ করছেন। পাশা পাশি সরকারও খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন। তাই লক ডাউন চলাকালে “মানবিক খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র” থেকে বৃদ্ধ, একেবারে অসহায়, হত দরিদ্র এবং শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিদের খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোখছানা হ্যাপি সাংবাদিকদের জানান, মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি অত্যন্ত একজন পরিশ্রমী নেতা। তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন সহ উপজেলার প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন।