ট্রাম্পের মধ্যস্ততার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল চীন-ভারত

৭:০১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০ আন্তর্জাতিক
Trumpmo

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই চিরবৈরী প্রতিবেশি ভারত এবং চীনের চলমান সীমান্ত উত্তেজনায় সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাদাখ সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের মাঝে বুধবার এক টুইট বার্তায় এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন তিনি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে চীন। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীন এবং ভারত দুই দেশই তাদের মধ্যেকার সমস্যা সমাধানে সক্ষম।

জানা গেছে, ৯ মে সীমান্ত এলাকাতে একটি ভারতীয় টহলদারী দলের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন সেনা সদস্যের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে চীনা সেনারা। ভারতের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ভারত-চীন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে চীনের সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই বুধবার আকস্মিকভাবে চীন ও ভারতের সীমান্ত বিরোধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প।

টাম্প টুইটে লেখেন, ‘আমরা ভারত ও চীন উভয় দেশকেই জানিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এখনকার সীমান্ত বিরোধের মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া দিয়ে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানান, সামরিক পরিস্থিতির সমাধানে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না দু’দেশ।

ঝাও সাংবাদিকদের সামনে বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে আমাদের সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং যোগাযোগের সংস্থান রয়েছে। তিনি পরিষ্কার ভাবে আরও বলেন, আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে হওয়া সমস্যাগুলোর যথাযথভাবে সমাধান করতে সক্ষম। এ বিষয়ে আমাদের তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনও দরকার নেই।

এরপর বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকেও বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, চীনের সঙ্গে তাদের মতবিরোধের মধ্যস্থতায় আমেরিকার সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, কূটনৈতিক স্তরে দিল্লি ও বেইজিং আলোচনা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সামরিক স্তরে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা করছে দুই দেশের বাহিনী। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতি বজায়ে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এই দুই পড়শি দেশ।

কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই পার্থক্যের ছায়া যাতে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে না পড়ে, পারস্পরিক বোঝাপড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আশাবাদী আলোচনার মাধ্যমে এই মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।