সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মৌসুমীর লাশ দাফনে বাঁধা দেয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

◷ ৯:২৭ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, মে ৩০, ২০২০ রংপুর
la

সাইফুল ইসলাম মুকুল, পাটগ্রামের বুড়িমারী থেকেঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার গার্মেন্টসকর্মী মাহমুদা বেগম মৌসুমী (২১) মরদেহ দাফনে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাঁধা প্রদানের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

শনিবার সকালে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২৯ এপ্রিল সময়ের কণ্ঠস্বরে চেয়ারম্যানের বাঁধা দেয়ার নিউজটি প্রচার হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মো. রফিকুল ইসলাম তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের বিরুদ্ধে মরদেহ দাফনে বাধা প্রদানের বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে।

গত ২১ মে গার্মেন্টসকর্মী মাহমুদা বেগম মৌসুমী গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রংপুরের তাজহাট এলাকায় এসে চালক বুঝতে পারেন মৌসুমী মারা গেছেন। এরপর তার মরদেহ রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান ট্রাকটির চালক ও হেলপার। পরে ৯৯৯ এর খবরের ভিত্তিতে তাজহাট থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৩ মে পুলিশ মৌসুমীর বাবা গোলাম মোস্তফার কাছে তার মেয়ের মরদেহ হস্তান্তর করে।

মৌসুমীর বাবা গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতকে মোবাইলে বিষয়টি অবগত করে নিজ এলাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি চান। কিন্তু চেয়ারম্যান ওই মরদেহ করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে তার পরিবার ও মরদেহবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা।

নিরুপায় হয়ে হতভাগ্য অসহায় বাবা মেয়ের মরদেহ দাফন করতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার একজন লাশবাহী গাড়িচালকের সাথে ৫ হাজার টাকা চুক্তি করেন লাশ দাফনের। চালক মরদেহ দাফনের আশ্বাস দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মরদেহটি তিস্তা নদীতে ফেলে দেন। স্থানীয়দের খবরে ২৪ মে রাতে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন গ্রামে তিস্তা নদী থেকে সরকারি ব্যাগে মোড়ানো অজ্ঞাত মরদেহটি উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, আদিতমারী থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। সেটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।