মির্জাপুরে ২২ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক

৪:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, মে ৩১, ২০২০ ঢাকা
pani

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে হঠাৎ করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২২ হেক্টর জমির বোরো ধান এখন পানিতে ডুবে গেছে। গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণের ফলে ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের এখন দুর্বিষহ অবস্থা।

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির ফলেই এ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস। একদিকে পানির নিচে ধান আর একদিকে শ্রমিক সংকটে চিন্তার ভাঁজ এখন কৃষকদের কপালে। ফলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।

জানা গেছে, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাকা ধান দিয়ে শিকড় বের হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে উপায় না পেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়েই কৃষকরা কোমর পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কেউবা আবার নৌকা ও কলার ভেলায় করে ধান পানির নিচ থেকে কেটে সড়কে নিয়ে মাড়াই করছেন। কেউ কেউ আধা পাকা ধানও কাটছেন। আবার যেসব কৃষকের ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে তারা ফসলের আশা ছেড়েই দিয়েছেন। সোনার ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ২২ মণ করে বোরো ধান উৎপাদন সম্ভব হলেও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৫০ ভাগ ধান তারা ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ফলে ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও পাওয়া যায় তা বাড়তি মূল্যে। এই কারণে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে কেউ কেউ গুনছেন অতিরিক্ত টাকা। যেখানে আয়ের চেয়ে ব্যয়ই বেশি।

উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের কৃষক ও বহুরিয়া ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল সামাদ সিকদার বলেন, আমার ০.৯০ একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। শ্রমিক সংকটের কারণে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কৃষি অফিসের সহায়তা চাই।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, এই দুর্যোগের সময় দিনমজুর শ্রমিকরাও সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮’শ থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা আদায় করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে এবছর উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৮’শত ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৫ শ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ২২ হেক্টর জমির ধান একেবারেই তলিয়ে যাওয়ার ফলে এগুলো আর কাটা সম্ভব নয় বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা। পানিতে এবার বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন পৌরসভার পোষ্টকামুরী, লতিফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও ফতেপুর, ইউনিয়নের থলপাড়া, গোবিন্দপুর সুতানলি, বন্যাতলী গ্রামের কৃষকরা।

বৈশ্বিক মহামারির মধ্যেও কৃষককে সহায়তা করতে মাঠ পর্যায় থেকে কৃষকদের সব ধরণের সহযোগিতা দিয়ে আসছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে এই পানি বাড়তে থাকলে অন্যান্য নিম্নাঞ্চল এলাকাগুলো তলিয়ে আরো ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান।