• আজ ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভূঞাপুরে বিল সাঁতরে কৃষকের স্বপ্নের ধান বাড়িতে পৌঁছে দিলো ছাত্রলীগ

১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

রবিউল ইসলাম, সময়ের কণ্ঠস্বর- কৃষক স্বপ্ন দেখেছিল আর কয়েক দিন পরই স্বপ্নের পাকা ধান উঠবে ঘরে। কিন্তু কৃষকের সমস্ত স্বপ্ন থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে দিল অসময়ের টানা বৃষ্টি ও যমুনার পানি।

এমন অবস্থায় অনেকে প্রায় কোমড় পানি থেকে ধান কেটে ঘরে তুললেও মহামারি করোনার থাবায় শ্রমিক ও অর্থ সংকটে ভোগা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের দরিদ্র কৃষক মজিবুর রহমানের তা সম্ভব হয়নি। তাই কয়েক মাসের সাধনায় অনেক ঘামে তিল তিল করে তৈরি করা সোনালি ধান ঘরে তোলার শেষ আশাটুকুও ছেড়ে দিয়েছিলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে অসহায় সেই কৃষককে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলো স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্নকে ঘরে তুলে দিতে হাঁটু পানিতে নেমে ধান কেটে বিল সাঁতরে তা বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা যায়, সোমবার (১ জুন) দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমান নামে এক চাষির প্রায় তলিয়ে যাওয়া ৩০ শতাংশ ধান হাঁটু পানিতে নেমে কেটে দেন তারা।

এতে অংশ নেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক অলিউর রহমান সিফাত, যুগ্ম আহবায়ক শাকিল মিয়া, মেহেদী হাসান শুভ, টিপু সুলতান, মাসুদ রানা, জাহিদ, রিয়ান চৌধুরী ও মাছুদ রানা।

এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক তারেক আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল মিয়া, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা লাভলু খান, ফারুকুজ্জামান তুষারসহ প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মীরা এই ধান কাটায় সহায়তা করেন।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল মিয়া সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, কৃষকের এ সংকট মোকাবেলায় তাদের সহযোগিতার জন্য টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান (ছোট মনির) ভাইয়ের নির্দেশনায় ও উপজেলা ছাত্রলীগের সরাসরি তত্বাবধানে শুরু থেকেই আমরা কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতেও কোনো কৃষক সহায়তা চাইলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে আহ্বায়ক অলিউর রহমান সিফাত সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, অর্থ ও শ্রমিক সংকটে কৃষক তার কষ্টার্জিত ধান কাটতে না পারার খবর জানতে পেরে গতকাল আমি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সরজমিনে ফলদা এলাকা পরিদর্শন করি এবং আমরা ওই কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি।

সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে ধান কেটে নৌকা ও রশি দিয়ে টেনে বিল সাঁতরে কৃষকের বাড়ি পৌঁছে দেই। যতদিন বন্যার পানি বাড়তে থাকবে ততদিন আমাদের এই কার্যক্রম বলবদ থাকবে ইনশাআল্লাহ।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মহানুভবতায় বোরো ফসল ঘরে তুলতে পেরে হাঁসি ফুটেছে কৃষক মজিবুর রহমানের। তিনি বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে ও যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাটার আগ মুহূর্তে জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। আশেপাশের সবাই ধান কেটে বাড়িতে আনলেও আমি কাটতে পারছিলাম না। পরে খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বিলে তলিয়ে যাওয়া ধান বিনা পারিশ্রমিকে কেটে বাড়িতে তুলে দিয়েছেন।