• আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীর সন্তান সাবেক জেলা জজের পরিবারে করোনার হানা

১১:৪৯ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুন ৩, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- দেশে হু হু করে করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। প্রতিদিনই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য পরিচালনা সংক্রান্ত কার্যক্রমের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক মো. শামসুল হক (৬৭) ও তার পরিবারের দুই সদস্য করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে শামসুল হকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে গত ২৭ মে দুপুরে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার ছোট ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শামসুল আবেদিন আবিদ (২২) এবং সুমন্ধির ছেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. ইমরান দেওয়ান সোহেল (৩০) বাসায় হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের সকলের আশু রোগমুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

সাবেক জেলা জজ মো. শামসুল হকের মেজ ছেলে মো. শামসুল আশেকিন আসিফ বলেন, আমার বাবার শরীরে জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দিলে গত ২৩ মে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরদিন ২৪ মে আনোয়ার খান মর্ডাণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনরায় করোনা পরীক্ষা করা হলে গত ২৭ মে সকালে রিপোর্ট পজেটিভ আসায় বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি চিকিৎসক ডা. মো. এনামুল হকের পরামর্শে আমার ছোট চাচা অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া তাকে একইদিন দুপুরে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আগের থেকে ভালো আছেন।

শামসুল আশেকিন আসিফ আরো বলেন, আমার বাবা করোনা পজেটিভ হওয়ায় ওইদিনই (গত ২৭ মে) আইইডিসিআর-এর টিম এসে আমাদের বাসার আরো ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পরদিন ২৮ মে নমুনা পরীক্ষার বিপোর্টে বাসার ৮ জনের নেগেটিভ আসে এবং আমার ছোট ভাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শামসুল আবেদিন আবিদ এবং মামাতো ভাই মো. ইমরান দেওয়ান সোহেলের রিপোর্ট পজেটিভ হয়। তারা বর্তমানে বাসায় হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং বাসার সকলেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে।

পরিবারের সকলের আশু রোগমুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন শামসুল আশেকিন আসিফ।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ী সদর উপর চরখানখানাপুর জজপাড়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শামসুল হক ২০১০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি তার নিজে জেলা রাজবাড়ীর করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনীর সদস্য, পৌরসভার মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জরুরী সেবায় নিয়োজিত বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের সমাজকর্মীদের মধ্যে গত ৯ ও ১০ মে দুই শতাধিক পিপিই (পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট) এবং গত ২০ মে রাজবাড়ীর চিকিৎসকদের জন্য ৪০টি N95 ফেস মাস্ক প্রদান করেন।

লকডাউনের কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় তার পক্ষে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রকিবুল হাসান পিয়ালের এসব প্রতিষ্ঠানে উপকরণ হস্তান্তর করেন।