চলিত মাস থেকেই শ্রমিকদের ছাঁটাই শুরু: বিজিএমইএ

৩:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- মহামারি করোনার প্রভাবে পোশাক রফতানির অর্ডার ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আর সেই কারণেই জুন থেকে কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের ছাঁটাই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিজিএমই-এর কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাকিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রুবানা হক বলেন, করার কিছু নেই। ছাটাই শ্রমিকের জন্য কী করা যায় সে বিষয়ে সরকার সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। আবার স্বাভাবিক হলে যারা ছাটাই হবে তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধীকার দেয়া হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে রপ্তানিমুখি পোশাক কারখানার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের জন্য ১২৩ বিলিয়ন ডলারের একটা ফান্ড আসছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. রুবানা হক বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা সবারই আছে, পোশাক শ্রমিকের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও কারখানায় যাচ্ছে। এ শঙ্কা সবারই আছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখছি।

যে প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের চাকরি থেকে বাদ দেবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. রুবানা হক বলেন, যাদের চাকরি যাবে তাদের বিষয়ে বিজিএমেএ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। তবে এপ্রিল এবং মে মাসে যেসব কারখানার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন তাদের বিষয়টি দেখা হবে।

রুবানা হক বলেন, ২ হাজার ২৭৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯২৬টি চালু রয়েছে, বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ৪৬টি কারখানার ১৮ হাজার শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন বাকি রয়েছে। এগুলো দেওয়া হচ্ছে, তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ঈদের আগের বোনাস দেয়নি। তারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বোনাস দিয়ে দিবে।

রুবানা হক বলেন, প্রতিদিন আমরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ করছি। গতকাল রাত পর্যন্ত ২৬৪ জন শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবাইকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করছে মালিক পক্ষ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শ্রমিকদের সংখ্যা জানালেও শ্রমিকদের পরিচয় ও কারখানার নাম জানাননি বিজিএমইএ সভাপতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সেনসিটিভ, কারখানা ও শ্রমিকদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

করোনায় ৪২ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা খাবে পোশাক খাত- এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে বিজিএমইর সভাপতি বলেন, তারপর এ বছর পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় হবে ২৩ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, করোনায় স্থগিত হওয়া ৩ দশমকি ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২৬ ভাগ অর্ডার ফিরে পেয়েছি। করোনায় মোকাবিলায় এখন মানুষ সুস্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। পোশাকে নয়। ফলে শতকরা ৬৫ শতাংশ অডার কমে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে ৫৫ ভাগ বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ২ শতাংশ তুলছে। করোনার কারণে পোশাক খাতে অনেক ছাঁটাই হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বেলন, আমরা এ শিল্পে বড় বিনিয়োগ নিয়ে কারখানা করেছি। আমাদের শ্রমিকের জন্য আমাদের কষ্ট কম নয়। প্রতি মাসে ৪২৩ মিলিয়ন ডলার মজুরি দেয়া হয় শ্রমিকদের। একটি সেক্টরে এত বেতন দেয়ার নজির পৃথিবীতে আর নেই।