এলাকাভিত্তিক কঠোর লকডাউনের তালিকা প্রস্তুত

৭:২৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ৬, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- চলমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ছুটি না বাড়িয়ে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনটি জোনে ভাগ করে এলাকাভিত্তিক ম্যাপ প্রস্তুত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, সংক্রমণের এলাকা ভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে তার সঙ্গে কিছু সুপারিশ ও প্রস্তাব তৈরি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজকের মধ্যে সেই তালিকা ও প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে মন্ত্রণালয়। কাল সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী। কাল প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পরই কিছু এলাকায় লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেড জোন পুরোপুরি কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে। এ জোনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ যেসব জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা হবে। আর ইয়োলো ও গ্রিন জোনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করা হবে। মূলত সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে করোনা মানচিত্র আপডেট করা হবে। আক্রান্তের ঘনত্ব অনুযায়ী এই মানচিত্র হবে তিন ধরনের- রেড, ইয়েলো ও গ্রিন।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান বিকালে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আজ শনিবার দেশের কোনও এলাকাকেই লকডাউন করা হচ্ছে না। কাল রবিবার (০৭ জুন) থেকে রাজধানীর ধানমন্ডির রাজাবাজার ও পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন নতুন পদ্ধতি হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহর এবং জেলা, যেগুলোতে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ব্যাপকভাবে সংক্রমিত এলাকাগুলোকে ‘রেড জোন’-এর আওতায় এনে পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যে এলাকায় জনবসতির প্রতি লাখে ৩০ থেকে ৪০ জন করোনা রোগী রয়েছে সেই এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়ারী ও রাজাবাজার এলাকাকে লকডাউন ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, রাজধানী থেকে শুরু হলেও এরপরের ধাপেই নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীতে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এর পর চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ অন্যান্য যেসব স্থানে সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছে সেসব এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হবে। ইয়ালো জোনে তুলনামূলকভাবে শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা কম থাকবে রেড জোনের তুলনায়। এক্ষেত্রে সেসব এলাকাকেও নজরদারিতে রাখা হবে। গ্রিন জোন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে যাতে এখানে কোনোভাবে রেড ও ইয়েলো জোন থেকে সংক্রমিত কেউ প্রবেশ করতে না পারে। রেড জোন এলাকায় যেনো কেউ ঘর থেকে বের হতে না পারে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত এই রেড জোনে কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। যতদিন সেই এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস পাবে না ততদিন লকডাউন থাকবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, রেড জোনে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে, একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্তমুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়োলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, ঢাকায় ২০ হাজার ৭০৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে মিরপুর এলাকায়। সেখানে ৯৬৯ করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে মহাখালীতে। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৫৭ জন। আক্রান্তের তালিকায় এর পরে আছে উত্তরা, মুগদা ও মোহাম্মদপুর। এ তিন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৩৩, ৪২৮ ও ৩৯৪।

বাকি যেসব এলাকায় সংক্রমিত রোগী বেশি, সেসব এলাকা হলো- যাত্রাবাড়ী (৩৮৭ জন), কাকরাইল (৩০০ জন), ধানমন্ডি (২৯৪ জন), মগবাজার (২৫৫ জন), তেজগাঁও (২৫১ জন), রাজারবাগ (২২১ জন), খিলগাঁও (২১৯ জন), লালবাগ (২০৬ জন), রামপুরা (১৯৭ জন), বাড্ডা (১৯৫ জন), মালিবাগ (১৬৪ জন), গুলশান (১৬৩ জন), বাবুবাজার (১৬২ জন), গেন্ডারিয়া (১৪২ জন), ওয়ারী (১২৪ জন), বাসাবো (১২২ জন), বংশাল (১০৯ জন) এবং আগারগাঁও (১০৮ জন)।

ঢাকার বাইরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও কক্সবাজারে।