• আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে খাবার সংকটে সহস্রাধিক বানর, ওদের কান্না থামাবে কে?

১:০৯ অপরাহ্ন | রবিবার, জুন ৭, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর, ফিচার

মোশারফ হোসাইন তযু, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শ্রীপুর উপজেলার বন্দরনগরী হিসেবে পরিচিত বরমী বাজারের প্রধান ঐতিহ্য বানর। শীতলক্ষ্যার তীরবর্তী এই বাজারে ব্যবসায়িক কারণে একসময় বার্মার ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতাযাত ছিল। আর তাদের মাধ্যমে প্রায় দুইশ’ বছর আগে এই বাজারে মানুষের সঙ্গে সঙ্গে আস্তানা গড়ে তুলে বানরের দল।

দীর্ঘদিন ধরে বরমী বাজারের দোকান ও বাসাবাড়ি থেকে বানরের খাবারের সংস্থান হতো। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনায় প্রায় সময় দোকান-পাট বন্ধ থাকায় খাবার সংকটে পড়ছে সহস্রাধিক বানর। খাবারের অভাবে থাকা বানরের কান্না ভেসে আসে থেমে থেমে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বরমী বাজার এলাকায় বানর দলবেধে চলাচল করে, কখনো নদীর ধারে আবার কখনো দোকানের টিনের ছাদে ছুটে বেড়ায় এরা। বন্যপ্রাণী হলেও বর্তমানে বন না থাকায় এসব বানর বরমী বাজারের বিভিন্ন মানুষের বাড়ি বা দোকানের বিভিন্ন পরিত্যাক্ত স্থানে বা গাছে আস্তানা গেড়েছে।

বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে বানরের পরিচিতি রয়েছে বেশ। নিরামিষভোজী হলেও এদের বাসস্থান বা খাবারে বেশ বৈচিত্র রয়েছে। বিভিন্ন দোকান থেকে তাদের চাহিদা মতো খাবারের ব্যবস্থা করতে হতো। অন্যথায় তাদের অত্যাচার বেড়ে যেতো। নানা দিক বিবেচনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই বানরের খাবারের যোগান দিয়ে আসছে বছরের পর বছর। তবে এবার করোনার কারণে বাজারের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তাদের চাহিদা মতো খাবারেরও ব্যবস্থা হচ্ছে না।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী শামীম শেখ জানান, করোনার কারণে বাজারের ব্যবসা প্রায় সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে দোকান সংলগ্ন নিজের বাসায় বসে খাবারের জন্য বানরের কান্না শুনতে পান। অভুক্ত এই প্রাণীদের দেখে তার মায়া হয়, তিনি মাঝে মধ্যে সামান্য কলা-রুটি কিনে বানরদের দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এই এলাকায় মানুষ ও বানর একসঙ্গে বসবাস করে আসলেও এখন অসহায় হয়ে পড়ছে বানরগুলো।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল হক বাদল সরকার জানান, এই এলাকার বানরদের নিয়মিত খাবারে যোগান দেওয়া না হলে এরা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অত্যাচার শুরু করে। খাবারের অভাবে এই প্রাণী বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে ২০১৭ সালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন পাঁচ টন খয়রাতি সাহায্য দিয়ে খাদ্য সহায়তা শুরু করে। তখন বানরের খাবারের জন্য ১০০টি কলাগাছ রোপন করা হয়। যদিও পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

চেয়ারম্যান আরো জানান, দুই বছর ধরে এই তহবিল থেকে সপ্তাহে দুই দিন বানরকে খাবার হিসেবে রুটি-কলা দেওয়া হতো। এই তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুনভাবে আর বরাদ্ধ না আসায় এক বছর ধরে খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। এরপর থেকে স্থানীয় দোকানদার ও বানর দেখতে আসা পর্যটকদের দেওয়া সামান্য খাবারে কোনোভাবে ক্ষুধা নিবারণ করে আসছিল। কিন্তু করোনার কারণে বাজার বন্ধ থাকায় এখন বানরগুলোর আর খাবার মিলছে না।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছুদিন বানরের খাবারের ব্যবস্থা করলেও এখন করোনার কারণে ঘরবন্দী সাধারণ মানুষকে সহায়তা দিতে হচ্ছে। তাই ইচ্ছা থাকার পরও তিনি এ মুর্হুতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।