• আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাবনায় পালিত ছেলের হাতেই খুন হন এক পরিবারে ৩ জন

৫:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ৭, ২০২০ রাজশাহী
arr

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার দিলালপুরে ভাড়া বাসায় একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সেইসাথে হত্যকান্ডে জড়িত নিহত আব্দুল জব্বারের পালিত ছেলে স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেন (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুলত টাকা পয়সা ও স্বর্নালঙ্কারের লোভে নি:সন্তান দম্পতি ও তাদের পালিত মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তানভীর। গ্রেপ্তার তানভীর নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

রোববার (০৭ জুন) দুপুরে পাবনা পুলিশ লাইন মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ছিলেন নি:সন্তান। একদিন বয়সী শিশু সানজিদাকে পালক নিয়ে লালন পালন করছিলেন। এর মধ্যে দেড় বছর আগে বাড়ির পাশে ফায়ার সার্ভিস মসজিদের ইমাম তানভীর ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে তাকেও সন্তান হিসেবে আপন করে নেন। তানভীরও তাদের বাবা-মা হিসেবে ডাকতে থাকেন। ব্যাংক, পোস্ট অফিসে টাকা লেনদেনেও তানভীরকে সাথে নিয়ে যেতেন আব্দুল জব্বার।

এখান থেকেই জব্বারের টাকা পয়সা ও স্বর্নালঙ্কারের দিকে লোভাতুর দৃষ্টি পড়ে তানভীরের। পরিকল্পনা করতে থাকে হত্যাকান্ডের। গত ২৯ মে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামে চলে যায় তানভীর। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ৩১ মে পাবনা ফিরে আসে সে। ওইদিন রাতে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের বাড়িতে অবস্থান নেয় তানভীর। আর রাত ২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুল জব্বার, তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদা (১২) কে কুপিয়ে ও কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। পরে নগদ ২ লাখ টাকা, এক লাখ ভারতীয় রুপি ও স্বর্নের গহনা লুট করে পালিয়ে যায়।

গত শুক্রবার (০৫ জুন) দুপুরে ওই বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শনিবার (০৬ জুন) রাতে নওগাঁর নিজ বাড়ি থেকে তানভীরকে গ্রেপ্তার করে। নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িত তানভীরের শাস্তি নিশ্চিতে সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, শামীমা আক্তার, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) খন্দকার রবিউল আরাফাত লেলিন, সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ, ডিবি পুলিশের ওসি ফরিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।