সংবাদ শিরোনাম
মানিকগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সহকর্মীদের মানববন্ধন | সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা: ইউরিয়া খেয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্ঠা! | আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত | লাশের মিছিল বেড়েই চলেছে, তবুও আলোচনায় নারাজ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান | বাংলাদেশের সাথে বন্ধ থাকা স্থলবন্দর খুলে দিতে ভারতকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ | কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ’র মৃত্যুতে দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক | ইয়াবা দিয়ে ‘ফাঁসাতে’ গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন এএসআই | কাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন ইউএনও ওয়াহিদা | খালেদার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চান ডিকসন | আবারো দলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান মেসির |
  • আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১ কোটি তিন লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল: ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

২:৩৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ৮, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- রংপুর সিটি করপোরেশনে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজে এক কোটি তিন লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। তবে মূল হোতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ অন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেবার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও এ ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানা সিটি করপোরেশনে শত শত কোটি টাকার কাজ কিভাবে পায় তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন ২/৩ জনের আর্থিক লেনদেন থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য সিটি করপোরেশন দরপত্র আহ্বান করে। খায়রুল কবীর রানা নগরীর কয়েকটি এলাকার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজের একটি প্যাকেজে কাজ পান। যার প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৯ কোটি টাকা। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের বিপরীতে পাঁচ দফা চলতি বিল গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ ৬ষ্ঠ ফাইনাল বিল দাখিল করেন যার টাকার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ওই বিলে ঠিকাদার খায়রুল কবীর রানা স্বাক্ষর করেন। এরপর ফাইনার বিলটি বিভিন্ন দফতরের স্বাক্ষর হবার পর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের কাছে বিলটি পাঠায়। তিনি এক কোটি ১০ লাখ টাকা ফাইনাল বিল প্রদানের জন্য স্বাক্ষর করে দেন।

প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করপোরেশনের কাজে ঢাকায় যান। এ সুযোগটি গ্রহণ করেন ঠিকাদার খায়রুল কবীর রানা। তিনি সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের যোগসাজসে বিলের পুরো কাগজপত্র পরিবর্তন করেন। সেখানে এক কোটি ১০ লাখ টাকার বিল ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা বানিয়ে নতুন করে বিলটি প্রকৌশল অধিদফতর হয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিলটির ব্যাপারে সন্দেহ হলে তিনি বিলটি দেখে স্বাক্ষর করবেন বলে রেখে দেন। এরমধ্যে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঢাকা থেকে রংপুরে আসেন। তিনি তার স্বাক্ষর করা এক কোটি ১০ লাখ টাকার বিল কিভাবে ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা হলো দেখে হতবাক হন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে বিষয়টি মেয়র মোস্তাফিজার রহমানকে জানানো হয়। তাক্ষণিকভাবে মেয়র এ ঘটনা তদন্তের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. জাফরকে প্রধান করে সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক ও রাবিদ আল আমিনকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি তদন্ত করে ঘটনার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানা, নির্বাহী প্রকৌশলী আযম আলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে এক কোটি ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৫ টাকা অতিরিক্ত বিল প্রদানের অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর মেয়র মোস্তাফিজার রহমান গত ৮ মার্চ তারিখে ঠিকাদারসহ তিনজনকে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। ঠিকাদারসহ তিন জনই কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করে। কিন্তু সিটি মেয়র সুনিদৃষ্টভাবে প্রমাণিত হবার পরেও শুধুমাত্র সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে সাসপেন্ড করার আদেশ দেন। যার স্মারক নম্বর ৫৭৮ তারিখ ১৮.০৫.২০ইং। এদিকে মূল দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়।

এ ব্যাপারে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি খায়রুল কবীর রানার নামে এক কোটি ১০ লাখ টাকা ফাইনাল বিলে স্বাক্ষর করে ঢাকায় গেছি। সেই বিল ক্যামনে ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা হলো আমার জানা নেই। তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, একবার ফাইনাল বিলে স্বাক্ষর করার পর সেই বিল কিভাবে পরিবর্তন হলো এটা তার জানা নেই। করপোরেশনের প্রভাবশালী একজনের স্বজনরা তার নামে ঠিকাদারী করে বলেই তিনি রেহাই পেয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের নামে অনেকেই কাজ করে।

সার্বিক বিষয় জানতে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অন্য এক কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে আর ঠিকাদারের দাখিল করা জবাবের আলোকে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান।