সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে বাবা ডেকেও রক্ষা পাননি গৃহবধূ, পালাক্রমে ধর্ষণ

৯:৩২ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ৮, ২০২০ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

মো: ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন জেলা ‘যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক’ এর নেতৃবৃন্দ।

সোমবার দুপুরে ব্র্যাক নোয়াখালীর ‘যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক’ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানান। জানা যায়, নির্যাতিতা ওই গৃহবধুর বাড়ি পাশ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার চরবৈশাখীতে।

নেটওয়ার্ক নেতৃবৃন্দ জানান, গত (৩ জুন) বুধবার বিকালে সুবর্ণচর উপজেলা থেকে পাশ্ববর্তী কবিরহাট উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে জমি কিনতে আসেন গৃহবধূ (২১) ও তার স্বামী (২৫)। কাজ শেষ না হওয়ায় ওই আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করেন তারা। রাতে স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি আবদুস ছাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে ৬-৭ জন ব্যক্তি গৃহবধূর আতœীয়ের বাড়ীতে আসেন। এ সময় তারা ঘরে ঢুকে ওই দম্পতির মধ্যে সম্পর্ক অবৈধ বলে তাদের বিয়ের কাগজ দেখতে চান। কিছু বুঝে উঠার আগেই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে আটক করে বাড়ীর পাশের্^ একটি জায়গায় নিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান সমাজপতিরা।

রাত যখন গভীর তখন দম্পতিকে ছেড়ে দিতে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করেন আবদুস ছাত্তার ও আবুল কালাম। পড়ে ওই গৃহবধূর স্বামী তার খালাতো ভাইকে মোবাইল ফোনে বিষযটি জানালে, তিনি পয়ত্রিশ হাজার টাকা মুক্তিপন হিসাবে ছাত্তারের হাতে দিয়ে আরও পঁচিশ হাজার টাকা পড়ে দিবেন মর্মে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। টাকা নিয়ে ছাত্তার গৃহবধূকে নিরাপত্তা দিবেন বলে তার মেয়ের বাড়ীতে নিয়ে যান এবং তার স্বামী ও খালাতো ভাইকে পিঠিয়ে জখম করেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ছাত্তার রাতে তার মেয়ের বাড়ী থেকে গৃহবধূকে তার স্বামীর কাছে পৌঁছে দেয়ার নামে বাড়ী থেকে বের করে নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় ৫-৬ জন লোকের হাতে ছেড়ে দেন। এ সময় গৃহবধূ তাদের কাছ থেকে বাঁচতে ছাত্তারকে বাবা ডেকেও রক্ষা পাননি। পরে তারা রাস্তার পাশের্^ একটি কলাবাগানে নিয়ে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যান।

এ ঘটনার তিনদিন পর ৬ জুন কবিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী। অবশ্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ এ পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মীর্জা হাছান জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।