উত্তরাঞ্চলে ভুট্টায় হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে

৩:০১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২০ অর্থনীতি, দেশের খবর, রংপুর

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে- উত্তরাঞ্চলে ভুট্টা চাষ বাড়ছে। সেচ সুবিধা পাওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ভুট্টার ভালো ফলনও পেয়েছেন কৃষক।

ভুট্টা’র নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য বয়ে এনেছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনষ্টিটিউট। কয়েক বছর ধরে ভালো দাম পাওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে।

জানা গেছে, পোলট্রি শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বেড়েই চলেছে ভুট্টার চাহিদা। বর্তমানে দেশে ভুট্টার চাহিদা আনুমানিক ৫০ লাখ টন। তাই, গত পাঁচ বছরে ভুট্টার উৎপাদন ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষক বলছেন, ধানসহ অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্রা চাষে সেচ কম লাগে তেমনি খরচও কম। তাছাড়া বাজার দর ভালো পাচ্ছেন তারা।

উত্তরাঞ্চলে অনেক কৃষক ঝুকে পড়েছে ভুট্রা চাষে। বারি-১৬ রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল ভুট্রা’র নতুন জাত কৃষকের দ্বারপ্রান্তে পৌছায় উত্তরাঞ্চলে এবার ভুট্রা’র ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বিলুপ্ত ছিট মহলগুলোর অনাবাদি পতিত জমিতে এখন চাষ হচ্ছে ভুট্রা।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্রা গবেষণা ইনষ্টিটিউট উদ্ভাবিত ভুট্র’র এ জাতের প্রযুক্তিগত চাষাবাদ, বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ’র সেচ সুবিধাএবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার কৃষক ভুট্রার আশাতীত ফলনও পেয়েছেন । আর এই নতুন জাতের ভুট্রা চাষে ঘুরেছে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা বলে জানিয়েছেন,দিনাজপুর বরেন্দ্র বহুমুথি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রেেকৗশলী মো,হাবিবুর রহমান।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্রা গবেষণা ইনষ্টিটিউটের মহা পরিচালক ড. মো.এছরাউল হোসেন জানিয়েছেন, গত ১০ বছর আগে যেখানে ভুট্টা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন, বর্তমানে সেখানে উৎপাদন হচ্ছে ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি অটুট রয়েছে ভুট্টার গুণগত মানও।

রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলণশীল ভ্রট্রার নতুন নতুন জাতগুলো চাষীদের ভুট্রা চাষে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ভুট্টার উৎপাদন ৩৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্রা গবেষণা ইনস্টিটিউটটের বিজ্ঞানিদের প্রজ্ঞা, মেধা ও অক্লান্ত শ্রমে এ পর্যন্ত ভুট্রার ১৭টি হাইব্রিড জাত, ৭টি ওপেন পলিনেটেড কম্পোজিত জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।

বিডাব্লুএমআরআই-ওয়ান এবং বিডাব্লুএমআরআই-টু নামে ভুট্রা’র আরো নতুন দু’টি জাত আগামীতে কৃষকের কাছে যাচ্ছে। উদ্ভাবিত দু’টি নতুন প্রজাতি ভুট্রা কৃষকদের সরবরাহ করা হলে আগামীতে ভুট্রার উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো তৌহিদুল ইকবাল জানান, ভুট্রার চাষ সম্প্রসারণ ও ভূট্রা’র নতুন নতুন জাতসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শনে মাঠ দিবস এবং ভুট্রা চাষ টেকসইকরণে চ্যালেঞ্জসমূহ শীর্ষক কর্মশালাও নিয়মিত আয়োজন করছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্রা গবেষণা ইনষ্টিটিউট, কৃষি বিভাগ ও বিএমডিএ।

সরজমিনে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলে এবার ভুট্রার ভালো ফলন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকলে এবং ভুট্রার ভালো দাম পেলে আগামীতে এ অঞ্চলে ভুট্রা চাষের পরিধি আরো বেড়ে যাবে এমটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।