সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নগর সবুজায়নের মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে গ্রীন সেভার্স

১:১৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুন ১০, ২০২০ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নগর বনায়নের মহা পরিকল্পনার শুভ সূচনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম। গ্রীন সেভার্সের উদ্যোগে প্রখ্যাত স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিবের সমন্বয়ে এই অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর প্রেসিডেন্ট ড. আকতার মাহমুদ, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্টার্স বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (সম্প্রসারণ ও কো-অর্ডিনেশন) মাহফুজ হোসেন মিরদাহ, নিসর্গী ও লেখক মোকাররম হোসেন, ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস ইন বাংলাদেশ এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল হক, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিন, ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামের আরবান আউটরিচ পার্টনারশীপস স্পেশালিস্ট লাইজা পাকুয়ো, ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মাইকেল রিযো এবং গ্রীন সেভার্সের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি।

ওইদিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নগর সবুজায়নের মহা পরিকল্পনার বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন ও ঢাকা সবুজায়নের রূপরেখা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।

হাতিরঝিল প্রকল্পের পরামর্শক, পরিবেশ আন্দোলনের অগ্রজ নেতা ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, পেশাজীবী, পরিবেশকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করতে একটি প্লাটফর্মে কাজ করার জন্য ‘নগর বনায়নের মহা পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা ১০টি হাত এক করতে চাই। মেয়র মহোদয়ের নেতৃত্বে পরিকল্পিত নগর বনায়ন করতে চাই। প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন দিয়ে শুরু হলেও একে একে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বাস্তবায়নমুখী নগর বনায়ন পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। নগর বনায়নের মহাপরিকল্পনার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করত: বিজ্ঞানসম্মত, অর্থনীতি নির্ভর, গবেষণাধর্মী, বাস্ববধর্মী, বাস্তবায়নমুখী পরিকল্পনার রূপরেখা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে অতি দ্রুত পেশ করা হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর প্রেসিডেন্ট ড. আকতার মাহমুদ বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কিভাবে বসবাসবাসযোগ্য করে তুলতে পারি, সেটাই মুখ্য। ঢাকার চারপাশের নদী এবং ভেতরে যে খালগুলো রয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে ব্লু এবং গ্রীন নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেতে পারে। নগর বনায়নের এই মহা পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স পাশে আছে।

ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ বলেন, আমরা সবাই এই নগরের নাগরিক। অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ, দূষণ কমানো, গাড়ি কমিয়ে গণপরিবহন বাড়িয়ে নগরকে বাসযোগ্য করার মহা পরিকল্পনায় নগর পিতার হাত শক্ত করার জন্য আমাদের সহযোগিতা সবসময় থাকবে। আমরা যে যার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারি। পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ফেজ থাকতে হবে। স্বল্পমেয়াদী, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের সাবেক চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্টস, আইউসিএন-এর সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিক্ষিপ্তভাবে যে সকল অপরিকল্পিত কাজগুলো রয়েছে সেগুলোকে একত্রে মহাপরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে ঢাকা ধূসর শহর থাকবে না। সবুজ শহরে পরিণত হবে। আজকে আমাদের মাননীয় মেয়র মহোদয়, নগরবিদ, পরিকল্পনাবিদ, বিজ্ঞজনেরা রয়েছেন। তাদের সকলের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি। বর্তমান সমস্যাগুলোকে আমলে এনে আমাদের কাঠামো তৈরি করতে হবে। ফরেস্ট্রি আর গার্ডেনিং এক নয়। সঠিক উপায়ে বনায়ন করতে গেলে কি কি করা লাগেবে; সেটা পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। আমরা প্রজাতি নির্বাচন থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়ে সহায়তা করতে পারব। বন অধিদপ্তরকেও যুক্ত করা যেতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (সম্প্রসারণ ও কো-অর্ডিনেশন) মাহফুজ হোসেন মিরদাহ বলেন, আমাদের ঢাকায় স্থান উপযোগী বৃক্ষ রোপন করতে হবে। গাছগুলো উৎপাদনমুখী হতে হবে; শহরের মানুষ গাছগুলো তেকৈ খাদ্য ও পুষ্টির বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। সে বিষয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জনবল ও কারিগরি পরামর্শের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পরিকল্পনায় রাজধানীর গাবতলীতে গ্রীন সেভার্সের মাধ্যমে যে গাছের হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলমান, তার মূল সমন্বয়ক ও নগর কৃষি বিশেষজ্ঞ আহসান রনি বলেন, আগের ঐতিহ্য ফিরে আসুক। প্রত্যেকটি গাছের অভিভাবক তৈরি হোক। অভিভাবকের দায়িত্ব নিতে পারে সিটি কর্পোরেশন। আমরা চাই প্রতিটি গাছ শুধু রোপন নয়, যত্ন ও লালন নিশ্চিত করা হোক। কোথায় কোন গাছ কবে লাগাবো, সেই নিশ্চয়তাও এই পরিকল্পনার মধ্যে পেতে চাই।

নিসর্গী ও লেখক মোকাররম হোসেন বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে বৃক্ষের জন্য আলাদা বিভাগ চাই। গাছের নিয়মিত পরিচযা, লালন, পরিসংখ্যান প্রয়োজন। গাছ লাগান, লালন করুন, পরিবেশ বাঁচান-এই বিষয়টি এখন আমলে আনতে হবে। বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে সঠিক গাছ চিহ্নিত করত: উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। আমাদের ৬টি ঋতুকে প্রাধাণ্য দিয়ে সবুজায়ন পরিকল্পনা করতে পারি; যাতে ঢাকা কখনও বিবর্ণ না থাকে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিন বলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ এই পরিকল্পনার সাথে থাকবে, সর্বাত্মক সহযোগিতাও করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, সারা ঢাকাবাসী আজ সৌভাগ্যবান; আপনাদের এতো বড় প্লাটফর্ম আমরা পেয়েছি। নগর বনায়নের জন্য আন্দোলন করবেন। আমি নেতৃত্ব দেব। আগামীকাল থেকেই আমরা গাছ লাগাবো। আর কোথাও অপ্রয়োজনে একটি গাছও কাটতে দেয়া যাবে না। বনায়নের শুরু হোক এখান থেকেই। ৪/৫ ফিট গাছ রোপন করা যেতে পারে। আবার বৃক্ষ ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না। গাছের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আহসান রনি বললেন, গাছ লালন করা য়ে। আমাদের বৃক্ষ রোপন করলেই হবে না। যত্ন ও লালন করতে হবে। গাছ রোপনের বিষয়টি ডাটাবেইজের মাধ্যমে পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। কোন গাছ লাগালে ফুলের গন্ধ আসবে, কোন গাছ লাগালে মশা চলে যাবে, কোন গাছ লাগালে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে পারি; এরকম একটি মাস্টার প্লান করতে হবে। আমাদের ঢাকা শহরে যেসব খাল রয়েছে, সেগুলো পরিকল্পনা করে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে প্রেজেন্টেশন করতে পারি; এতে তারাও এগিয়ে আসবে। ইকবাল হাবিব বললেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে চায়; কিন্তু তারা প্লাটফর্ম ও পরিকল্পনা চায়। আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিতে পারি। পরিকল্পিত বনায়ন ঢাকার সবুজায়ন করার পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা একসাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে চাই। আজকের এই প্লাটফর্ম থেকে ঢাকা সবুজায়ন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হলো।

সকলে হাত মেলালে সারা বাংলা হাতিরঝিলের মতো জলসবুজের উদ্যানে পরিণত হতে পারে। ছাদ বাগান থেকে শুরু করে প্রাঙ্গণ বাগান, প্রাঙ্গণ বাগার থেকে শুরু করে নগর বাগান-প্রতিটি ক্ষেত্রে সকলকে সঙ্গে নিয়ে নগর আন্দোলন শুরু করার প্রত্যয় নিয়েই গ্রীন সেভার্সের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে।