সৈয়দপুরে করোনা হাসপাতাল বানাতে চায় ডক্টরস্ হসপিটাল

৫:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ১০, ২০২০ রংপুর

মহিবুল্লাহ্ আকাশ, সময়ের কণ্ঠস্বর :: করোনার রোগীদের জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুরে হাসপাতাল বানানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ডক্টরস্ হসপিটাল এন্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এক বার্তায় এই আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন প্রাইভেট হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন তাহমিদ ইমাম মুক্তা। সৈয়দপুরসহ পুরো নীলফামারী জেলায় করোনার সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করলে তাহমিদ ইমাম মুক্তা বলেন, এই মুহূর্তে সৈয়দপুরের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে ছোট্ট এই উপজেলা শহরটি সবচেয়ে কর্মব্যস্ত ও জনবহুল শহর। এখানকার মানুষকে বাঁচাতে হলে করোনা হাসপাতাল স্থাপনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কোনো সরকারি স্থাপনা অধিগ্রহণ করেও এটি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সৈয়দপুর পৌর পরিষদ কর্তৃক নির্মাণকৃত আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে, পৌর প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাইলে এই স্থাপনাটিকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। অন্তত পক্ষে ১০০ শয্যা এবং ৫০টি ভেন্টিলেটরসমৃদ্ধ হাসপাতাল না হলে সৈয়দপুরসহ আশপাশের অঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানে কোন আইসিইউ বা গুরতর রোগীর জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার মত বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি নেই। সৈয়দপুরে যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে আইসিইউ বিহীন ১০০ শয্যার হাসপাতাল নিতান্তই অপ্রতুল। তাই সরকারিভাবে ১০০ শয্যার হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগে আইসিইউসহ করোনা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ হাসপাতাল এখন প্রয়োজন।

এখানে করোনার জন্য বিশেয়ায়িত হাসপাতালটি চালু করা গেলে সৈয়দপুর ও নীলফামারীসহ পাশের জেলাগুলো যেমন ঠাঁকুড়গাও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরের রোগীরাও উপকৃত হতে পারবেন।

করোনা রোগীর জন্য যথেষ্ট সুযোগ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যা প্রস্তুত করতে সমাজের বিত্তবান সহ জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে এগিয়ে এলেই কেবল আমাদের উদ্যোগটি সফল হতে পারে, আমরা হাসপাতালের জন্য কারিগরী ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল সহায়তা করার জন্য তৈরী আছি। ইতোমধ্যে সৈয়দপুরবাসীর জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে রোগী পরিবহণের জন্য পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স নামানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের সর্বশেষ (মঙ্গলবার) তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছয় উপজেলায় কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৭জন। আর মৃত্যু বরণ করেছেন ৪ জন।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে আক্রান্ত সংখ্যায় সবার ওপরে নীলফামারী সদর উপজেলা। এই উপজেলায় এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ৬৮, সৈয়দপুর উপজেলায় ২৯, জলঢাকা উপজেলায় ৩৬, ডিমলা উপজেলায় ২৬,ডোমার উপজেলায় ২৩ ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৫। সৈয়দপুরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণও করেছে।