লাইফ সাপোর্টে মোহাম্মদ নাসিম: সিঙ্গাপুর নিতে চায় পরিবার

২:৪০ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ১০, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনামুক্ত হলেও দ্বিতীয় দফায় ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তার অবস্থার তেমন পরিবর্তন না থাকায় নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এদিকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা মোহাম্মদ নাসিমকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর চেষ্টা করছে তার পরিবার।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বুধবার বলেন, নাসিম ভাইয়ের ছেলে তানভীর শাকিল জয় আমাকে সকালে জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজেবেথ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সেখানে কাগজপত্র পঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশন ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হচ্ছে। তবে এই অবস্থায় নাসিমকে বিদেশে নেওয়া যাবে কি না- তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তার চিকিৎসায় গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বুধবার বলেন, উনার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেই (আইসিইউ) আছেন সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাকে ভেন্টিলেশন দিয়ে রাখা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আল ইমরান চৌধুরী জানান, মোহাম্মদ নাসিমের সোম ও মঙ্গলবার করা করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

উল্লেখ্য, রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। ৪ জুন তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়।

গত শনিবার মোহাম্মদ নাসিমের চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। গত সোমবার আরও দুজন চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ডে যুক্ত করা হয়।

প্রাথমিকভাবে মোহাম্মদ নাসিমকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত দেয় মেডিকেল বোর্ড। ৭২ ঘণ্টা শেষে সোমবার আরও ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল ও অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক রাজিউল হককে ফোন করে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।