করোনায় মৃত্যুর ভয়ে আমি ভীত নই: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

৯:০৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ১০, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- মহামারি করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর ভয়ে ভীত নন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি তো এখানে বেঁচে থাকার জন্য আসি নাই। আমি তো জীবনটা বাংলার মানুষের জন্য বিলিয়ে দিতেই এসেছি।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনার সময় প্রসঙ্গক্রমে তিনি এ কথা বলেন।

বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার স্মরণে এ শোক প্রস্তাব আনা হয়।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় বিরোধীদলের চিপ হুইপ জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ অধিবেশনে না এসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অংশ নিতে পারেন বলে মত দেন।

রাঙ্গা বলেন, বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনাকে দরকার। তাই এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর অধিবেশনে না আসাই ভালো। পরে স্পিকার বলেন, আপনি শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন।

এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক পর্যায়ে বলেন, বিরোধীদলের চিফ হুইপ আমার সংসদে আসার বিষয়ে কথা বলেছেন। করোনায় মৃত্যুর ভয়ে আমি ভীত নই। মানুষ মরণশীল, জন্মালে মরতে হবে। সে করোনায় মরি আর গুলি-বোমায় মরি। মুত্যু অবধারিত, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ভয় পাবো না। আমার বাবা, মাসহ পরিবারের সবাইকে মারা হয়েছিল। যারা মেরেছিল তারাই ক্ষমতায় ছিল। আমি যদি ভয় পেতাম তাহলে দেশে ফিরে আসতাম না।

‘আল্লাহ জীবন দিয়েছে, আল্লাহ নিয়ে যাবে। এটাই আমি বিশ্বাস করি। যতক্ষণ বেঁচে আছি কাজ করে যাবো। করোনার মধ্যে আমরা বাজেট দিচ্ছি। অনেকে বাজেট দিতে পারছে না। কিন্তু আমি বলেছি, বাজেট দিতে হবে।

সংসদ নেতা বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখী করেছে। করোনার কারণে দেশের অনেক কিছু স্থবির হয়ে যায়। যারা দিনে এনে দিন খায়, তাদের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়ে। তাদের প্রত্যেককে খুঁজে খুঁজে বের করে সাহায্য পৌঁছে দিয়েছি, অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। দেশের একটি মানুষও যেন কষ্ট না পায়, খাদ্যের অভাবে না থাকে— সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। অন্যান্য দেশ না পারলেও এই করোনাকালের মধ্যে সরকার বাজেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে দেশের চরম দুঃসময়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা একে একে মৃত্যুবরণ করছেন। মনে হচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে একটা একটা করে পাতা ঝরে পড়ছে।

তিনি বলেন, চরম এই দুঃসময়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত এ দুঃসময়ে সাহসের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, এদের মধ্যে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।