“করোনা সংক্রমণ রোধে র‍্যাপিড টেস্টের বিকল্প নেই”

১২:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২০ ফিচার
aa

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে বিমান চলাচল। বিমানের যাত্রীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে র‍্যাপিড টেস্টের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্যের র‍্যাপিড টেস্টিং কিট উদ্ভাবক দলের অন্যতম সদস্য ড. ফিরোজ আহমেদ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে। আমরা ছোট এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। সত্যিকার অর্থে জনগণের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সঠিক তথ্য আমাদের হাতে নেই। মানবসম্পদ ও পোশাক শিল্পের রপ্তানি বাণিজ্য দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সারা বিশ্বে যেমন হইচই, তাতে আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিভিন্ন এয়ারপোর্টে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে পারেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর দিকে এরকম একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেশি-বিদেশি বহু মানুষের ফোন কল পেয়েছি। সবারই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নেই এমন একটি সার্টিফিকেট দরকার ছিল। কেউ দৌড়াচ্ছে আইইডিসিআর, কেউ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আবার কেউ ছুটছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কি যে একটা ভজঘট ব্যবস্থা!

বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিমান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত আছেন তো! আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন সব ঘটনা ঘটে যে, চিন্তিত না হয়ে পারি না। একটা ঘটনা তো আমার মনে খুব দাগ কেটেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান চলাকালে ঘোষণা দেবার পর জাতীয় সংগীত বাজাতে পারলো না কর্তৃপক্ষ। উপায়ন্তর না দেখে কোন একজন সংসদ সদস্য দৌড়ে মঞ্চে উঠে তাড়াহুড়ো করে খালি গলায় জাতীয় সঙ্গীতের কয়েকটি লাইন গেয়ে দেশোদ্ধার করলেন। আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকারের আমলে আজ পর্যন্ত অবশ্য জাতীয় সংগীতের অমর্যাদা হতে শুনিনি।

ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, করোনা মহামারী নিয়ে আমরা একের পর এক ভুল করে চলেছি। সরকারের বেশ কিছু সংস্থার গোয়ার্তমি আর দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমাদের সবাইকে একটু ঠান্ডা মাথায় বসে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’কে সাথে নিয়ে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অবশ্যই একটি স্বতন্ত্র কোভিড-১৯ ভাইরাস সনাক্তকরণ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল ও সনদ দেবার কাজটা সম্পন্ন করতে মানসম্পন্ন র‍্যাপিড টেস্ট এর বিকল্প নেই! আমাদের র‍্যাপিড টেস্ট নিতে হবে আমি সে কথা বলছি না। তবে বিদেশগামী যাত্রীদের অবশ্যই একটি করোনা সংক্রমণ টেস্ট সার্টিফিকেট লাগবে এবং সরকারের তা দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। এমনকি সেটা আমরা বিদেশগামী যাত্রীর যাবার আগের দিন পর্যন্ত টেস্ট করে কোয়ারেনটাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে পারি। যাতে কেউ আমাদের বিমান যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। যারা আসবে তাদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি প্রাথমিক স্ক্রীনিং অত্যন্ত জরুরি।

কোয়ারেন্টাইন এর ব্যবস্থাও নতুন করে চালু করা উচিত। স্ক্রিনিংয়ে যাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেবে তাদেরকে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইন করে পরবর্তী সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। উন্নত বিশ্বের অন্যান্য এয়ারপোর্টের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা ব্যবস্থার আলোকে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। তাই বলে স্বচক্ষে দেখার নাম করে সংশ্লিষ্টদের আবার সরকারি কোষাগারের অর্থ অপচয় এর প্রচেষ্টা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। সকলকে অনুরোধ করছি- বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমার এই বক্তব্যকে অতিকথন হিসেবে নিবেন না।

সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা মানে বাংলাদেশের মানুষ করোনা ভাইরাস এর কোন কোন টাইপ দিয়ে সংক্রমিত হয়েছি তা এখনো পর্যন্ত নির্ণয় করতে পারিনি। জানামতে নানা পর্যায়ে সিকোয়েন্সিং এর কাজ চলছে। করোনা ভাইরাসের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি বুঝতে আমাদের আরও সময় লাগবে। পরিবেশ, পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের পুষ্টিমান ও অনুসঙ্গী দুরারোগ্য ব্যাধি এবং জীবন যাপনের ধারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের গতিপথ ও সামগ্রিক চিত্র দিন দিন পাল্টে দিচ্ছে। এখনও অনেক কিছুই আমাদের অজানা। সুতরাং এই অধমদের কথাগুলো একটু আমলে নিলে সরকারের উপকারের চেয়ে অপকার হবে না। অতএব, সাধু সাবধান!

গতকাল আমার সহধর্মিনীর অত্যন্ত কাছের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহকর্মী এবং বয়সে অন্তত ০৫ (পাঁচ) বছরের জুনিয়র তিনটি সন্তানের প্রিয় জননী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ২১ (একুশ) দিন পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মনে রাখতে হবে যে, এই হৃদরোগটি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সৃষ্ট একটি উপসর্গ। তাই সবশেষে সবাইকে আবারো বলতে চাই- নিয়মিত মাস্ক পরার অভ্যাস করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, নিজের আশপাশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন এবং সততার সাথে জীবনযাপনের ব্রত মেনে চলুন। সবাইকে আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি- আপনার জীবন আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

আসুন, সততার সাথে জীবন গড়ি। দেশ মা’কে রক্ষা করি।

বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।