• আজ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা: এক মাসেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, জুন ১৪, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃমনির মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার- মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে বাজার পরিদর্শনে গেলে পুর্ব পরিকল্পিতভাবে আশুলিয়া রাজেস্ব সার্কেল এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের ওপর হামলা করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এ ঘটনায় গত ৬ মে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী (নাজির) ইকবাল হোসেন বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

এদিকে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলার ঘটনায় গত ১০ মে (রবিবার) সাভার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমানসহ পুলিশের উদ্ধোতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামুর রহমান।

এসময় প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারী কর্মকর্তার উপর হামলা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ৬ মে বুধবার সকালে আশুলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজস্ব সার্কেল আশুলিয়া হাটবাজার পরিদর্শন করতে যান। এ সময় সাদা টি শার্ট এবং প্যান্ট পরিহিত একজনকে মাস্ক না পড়ার কারণে তার নাম-ঠিকানা জানতে চান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ সময় ওই ব্যক্তি অন্য একজনকে ডেকে আনেন এবং সে ম্যাজিস্ট্রেটকে মারতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সে আরও ৪০-৪৫ জন লোক ডেকে এনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ তার লোকদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আবু তালেব, আল আমিন মাদবর, রুহুল মাদবর, বিপ্লব সাহাসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করাা হয়।

মামলার বাদি মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশুলিয়া রাজস্বসার্কেলের জনাব তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ সাথে আশুলিয়া হাটবাজারের অবস্থার পরিদর্শন করতে যাই। অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জন লোক ডেকে এনে আকস্মিকভাবে আমাদের উপর আক্রমণ করে এবং এলোপাথারি আঘাত করে।

হামলার ঘটনায় টঙ্গাবাড়ির এলাকার মৃত মজলু মাদবরের ছেলে রুহুল মাদবর ও তার ভাই আবু তালেব বাবু, আলী মাদবরের ছেলে আলামিন মাদবর, ও মৃত হরিদাসের ছেলে বিপ্লব সাহাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া হামলার সাথে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীসহ বর্তমান চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিনের লোকজনও এই ষড়যন্ত্র এবং আক্রমণের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।

এদিকে মামলা দায়েরের এক মাস পার হয়ে গেলে অদ্যবধি হামলার ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে সরকাররি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের মদদ দাতাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীসহ সচেতন এলাকাবাসীরা।

জানতে চাইলে আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, নিয়মিত হাটবাজার পরিদর্শন করা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর কাজের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় আমি আশুলিয়ায় হাটবাজার পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিনের লোকজন ও তাদের প্ররোচনায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমাদের উপর হামলা করে। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ গত এক মাসেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

হাট-বাজারের ইজারাদার পিন্টু মোল্লা অভিযোগ করেন, গত ১৩ বছর ধরে শাহাবুদ্দিন চেয়ারম্যান আশুলিয়া হাট-বাজার জোরপূর্বক নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে আসছিল। তবে এবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে টেন্ডার হওয়ায় আমরা ১৩ লাখ টাকা ডাক পেয়েছি। এরপর থেকে চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে নানাভাবে আমাদের হাটবাজার পরিচালনায় বাঁধা দিয়ে আসছে।

তবে হামলার বিষয়ে আশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কেন সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলার নের্তৃত্ব দিবো। বাজারের ব্যবসায়ীরাই ক্ষুদ্ধ হয়ে তার উপর হামলা চালিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলাকারীদের ধরতে ইতোমধ্যে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।