আজ সংসদে আসতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

৩:৪৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ১৪, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সংসদে আসব, অনেক জায়গা থেকে কিন্তু আমাকে ভীষণভাবে বাধা দেয়া হয়েছে, নিষেধ করা হয়েছে। বলেছে- নেত্রী আপনি যাবেন না। আমি বললাম– গুলি, বোমা, গ্রেনেড কত কিছুই তো মোকাবেলা করে এ পর্যন্ত এসেছি। আর একটা অদৃশ্য শক্তি তার ভয়ে ভীত হয়ে থাকব?

রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়।

বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বাজেট উত্থাপনের পর মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল সংসদ। আজ তৃতীয় কার্যদিবসে বাজেটের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই সংসদ সদস্যের মৃত্যু জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকেও এলোমেলো করে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্লামেন্টের মেম্বার, আমাদের আওয়ামী লীগের পরিবারের একজন সংসদ তাকে হারিয়েছি। আমাদের কেবিনেটের একজন সদস্য তাকেও হারালাম। আর সেখানে আমি সংসদে যাবো না, এটা তো হয় না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে পাশে থেকে যারা সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন, তারা একে একে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। নাসিম ভাইয়ের পর শেখ আব্দুল্লাহ ভাইও চলে গেলেন। এটা আমার জন্য খুবই দুঃখজনক।’

এদিকে করোনা সংক্রমণে আজ সারা বিশ্বই আতঙ্কিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যেটা সত্যি খুব দুঃখজনক। করোনা ভাইরাসের ভীতিটা প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বেই। এখানে উন্নত দেশ, অনুন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ। অস্ত্রের দিক থেকে শক্তিশালী, অর্থের দিক থেকে শক্তিশালী অথবা হয়তো দরিদ্র রাষ্ট্র- কোনও ভেদাভেদ নেই। সব যেন এক হয়ে গেছে এক করোনা ভাইরাসের ভয়ে ও আতঙ্কে। সব জায়গায় কিন্তু একই অবস্থা। আমেরিকা থেকে শুরু করে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় এই ওয়েবটা চলছে।’

অধিবেশনের শুরুতে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অনেক কষ্টে তিনি সভাপতির বক্তৃতা শেষ করেন। এসময় তিনি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়াত দুই নেতার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

পরে সংসদে দুই সংসদ সদস্যের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের, আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরী, ডা. হাবিবে মিল্লাত ও মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিতে শোক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

এরপর এক মিনিট নিরাবতা পালনের পর দুই নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর দিনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করে অধিবেশন মুলতবি করা হয়।