সংবাদ শিরোনাম
নান্দাইলে বাস চাপায় নারী নিহত | ২০২১ সালে খুলে দেয়া হবে স্বপ্নের পদ্মাসেতু: রেলমন্ত্রী | সিঁদ কেটে তুলে নিয়ে শিশু ধর্ষণকারী আলী হোসেন গ্রেফতার | সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী | হাসপাতালের পরীক্ষার বিল ডাকাতির মতো: মেয়র আতিক | টাঙ্গাইলে খাটের নিচে মিলল ১শ’ বোতল ফেন্সিডিল, গ্রেফতার ১ | কক্সবাজারের ৮ থানার ওসিসহ ২৬৪ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি | পঞ্চগড়ে মায়ের সাথে অভিমান করে মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা | রাজবাড়ীতে আ.লীগ নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন | কুড়িগ্রামের অবৈধ কর্ম-কান্ডের দায়ে আ‘লীগ নেতা আটক, গণধোলাই! |
  • আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আনোয়ার হোসেন নন, বেশিরভাগ ‘মাসুদ রানা’ লিখেছেন আবদুল হাকিম

১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুন ১৫, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- তুমল জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ ‘মাসুদ রানা’। এই বিখ্যাত সিরিজটির লেখক হিসেবে পরিচিত কাজী আনোয়ার হোসেন। সবাই এতদিন তাই জানত।

তবে কাজী আনোয়ার হোসেন ‘মাসুদ রানা’ লেখা শুরু করলেও সিরিজের আড়াই শতাধিক বই লিখেছেন শেখ আবদুল হাকিম; পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তার কাছ থেকে লেখা নিয়ে কাজী আনোয়ার হোসেন নিজের নামে প্রকাশ করতেন বলে জানিয়েছে কপিরাইট অফিস।

গত বছর জুলাইয়ে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে মালিকানা স্বত্ব দাবি করে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেছিলেন শেখ আবদুল হাকিম।

তিন দফা শুনানি, দুই পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি ও তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের আলোকে রোববার (১৪ জুন) কপিরাইট অফিসের এক রায়ে বলা হয়েছে, সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেন কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘন করেছেন।

কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী জানান, মাসুদ রানা সিরিজের প্রায় ৪৫০টি বইয়ের মধ্যে ২৬০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমের দেওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তিনিই বইগুলোর লেখক। সেই সঙ্গে কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখকও তিনি।

রায়ে বলা হয়, সেবা প্রকাশনীর তুমুল জনপ্রিয় এই সিরিজটি প্রথম ১১টি বইয়ের পর ২৬০ পর্ব পর্যন্ত এটি লিখেছেন শেখ আব্দুল হাকিম।

২০১৯ সালের ২৯ জুলাই মামলা করেন শেখ আবদুল হাকিম। তিনি ছাড়াও মাসুদ রানার আরেক লেখক ইফতেখার আমিনও কপিরাইট আইনে মামলা করেছেন মাসুদ রানার স্বত্ব নিয়ে। তবে ইফতেখার আমিনের মামলা এখনও চলমান বলে জানিয়েছে কপিরাইট অফিস।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, কাজী আনোয়ার হোসেন দাবি করেন যে হাকিম সাহেব কর্মচারী ছিলেন এবং তার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি লিখেছেন। তিনবার শুনানি শেষে সে সময় যারা সেবা প্রকাশনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের মতামত চাওয়া হয়। তারা প্রত্যেকে দাবি করেন আনোয়ার হোসেনের কথা সত্য নয়, লেখক হিসেবে হাকিম সাহেব কর্মরত ছিলেন। অন্যের লেখা প্রকাশকের নিজের নামে ছাপানো কপিরাইট আইনে ৮৯ ধারা স্পষ্ট লঙ্ঘন। যে ধারায় বলা আছে অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ৪ লাখ টাকা জরিমানা হবে। সেটি যদি হাকিম সাহেব চান তবে দায়রা আদালতে যেতে পারেন।

উল্লেখ্য, ধ্বংস পাহাড় দিয়ে শুরু হওয়া ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ৪৬০টির মতো বই প্রকাশ হয়। এরমধ্যে ২৬০টি শেখ আবদুল হাকিম লিখলেও তার নামে স্বত্ব রয়েছে মাত্র একটি। অন্যদিকে তিনি কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক বলেও কপিরাইট আইন মামলায় জিতেছেন। এই সিরিজের মাত্র ৬টির স্বত্ব তার নামে আছে।

এক বছরের চলমান এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে মতামত দেন সেবা প্রকাশনীর লেখক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান এবং সেবা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খান। তাদের লিখিত মতামতের ওপর ভিত্তি করেই এই রায় দেওয়া হয়।

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে কাজী আনোয়ার হোসেন আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই কপিরাইট অফিসে আপিল করার সুযোগ আছেন বলে জানান জাফর রাজা চৌধুরী।