আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কী খেলা জানি না: প্রধানমন্ত্রী

১:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ১৫, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনাভাইরাস সংকটে সারাবিশ্বের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস এই একটা ভাইরাস যাকে দেখা যাচ্ছে না, অদৃশ্য একটা শক্তি! জানি না আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কী খেলা! সেই অদৃশ্য শক্তির ভয়ে আজকে সারাবিশ্ব স্থবির। সারাবিশ্ব স্তম্ভিত।

সোমবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিং’র মাধ্যমে এসএসএফের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই, আমাদের মানুষের ভেতর যেন একটি আস্থা- বিশ্বাস থাকে। সেই বিশ্বাস-আস্থাটা ধরে রাখতে হবে। কারণ আমরা হার মানব না। মৃত্যু তো হবেই। মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো কারণে হতে পারে। কিন্তু তার জন্য ভীত হয়ে হার মানতে হবে এই ধরনের একটা অদৃশ্য শক্তির কাছে, এটা তো কাম্য না। সে জন্য আমাদেরকেও প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে যে গভীর আঁধারে নিমজ্জিত এই পৃথিবী, সে আঁধার ভেদ করে আমরা নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসব এক নতুন দিনের সূর্যালোকে। মনে রাখতে হবে, দুর্যোগেই হয় মনুষ্যত্বের পরীক্ষা। এ ভাইরাস মোকাবিলাও একটি যুদ্ধ। এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবই, ইনশাআল্লাহ।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের কারণে মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে উন্নত অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত, মৃত্যুর হার অনেক কম। আমাদের এই মুহূর্তের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি এবং ব্যক্তিগতভাবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন তদারকি করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে করেছি যাতে লোক সমাগম কম হয়। পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিও ডিজিটালি করতে হচ্ছে। কারণ একদিকে মানুষকে বাঁচানো, মানুষের খাবারের ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবস্থা সেগুলো যাতে ঠিক থাকে, চলমান থাকে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতি আছে বলে আমি বার বার মানুষের কাছে যেতে পারছি, কথা বলতে পারছি। আমি বার বার মানুষের মাঝে যাই কারণ আমি চাই মানুষের ভেতরে যেন আস্থা থাকে, বিশ্বাস থাকে। সেই বিশ্বাস আস্থাটা ধরে রাখতে হবে।’