• আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের আরও দুই সদস্য মাদারীপুরে গ্রেফতার

১১:১৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ১৫, ২০২০ ঢাকা
rab

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর: লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদারীপুর র‌্যাব-৮। সোমবার গভীর রাতে রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানাধীন তেরখাদিয়া এলাকা হতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামী হানিফ বয়াতীর ছেলে নাসির বয়াতী (২৭) ও মমিন উদ্দিন বয়াতীর ছেলে হানিফ বয়াতী (৬০) উভয়ের বাড়ী মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার উত্তর আড়াইপাড়া গ্রামে।

সোমবার বিকালে মাদারীপুর র‌্যাব-৮ ক্যাম্পে প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকশ দল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সোমবার (১৫জুন) গভীর রাতে রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানাধীন তেরখাদিয়া গ্রাম এলাকা হতে নাসির বয়াতী, হানিফ বয়াতী গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উক্ত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে। আসামী নাসির বয়াতী ও হানিফ বয়াতী দালাল চক্রের মূলহোতা রেজাউল বয়াতী এর সাথে যোগসাজসে অবৈধভাবে লিবিয়ায় বাংলাদেশ হতে বিভিন্ন উপায়ে মানব পাচার করে। নাসির বয়াতী ও হানিফ বয়াতী বাংলাদেশ হতে লিবিয়ায় মানব পাচারের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও লোক সংগ্রহের কাজ সম্পাদন করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে রাজৈর থানার মামলা রয়েছে। আটককৃত আসামীকে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। উক্ত চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালিতে সমভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। বর্ণিত চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার করে থাকে।

তৎপরবর্তীতে লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা লিবিয়ার বন্দিশালায় তাদেরকে আটক রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং উক্ত বন্দীদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে লিবিয়া হতে নৌকাযোগে অবৈধ পন্থায় ইতালিতে গমনের সুযোগ করে দেয়া হয়। ক্ষেত্র বিশেষে বন্দীপ্রতি উক্ত চক্রটি পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করে।