ছাত্রলীগের দাবির প্রেক্ষিতে ইবি ছাত্র ইউনিয়ন সম্পাদক বহিষ্কার

১২:০৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
iuuu

ইবি প্রতিনিধিঃ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মো. নাসিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি কে সাদিককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসাথে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, প্রয়াত নাসিমের মৃত্যুর আগে ও পরে তাকে এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে GK sadik নামের ফেসবুক আইডি থেকে মোঃ সাদিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেন। সাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক।

এসময় তাকে নিজে এবং সংগঠনের নেতাদের বিভিন্ন স্ট্যাটাস কপি করে পোস্ট করতে দেখা যায়। বিষয়টি অবগত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।

সাদিকে দেয়া স্ট্যাটাসের মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরা হলোঃ

‘আমার মন্ত্রী’ খোয়া গেছে একটা চালের ভুলে কোথায় দাঁড়াই।’

“আমাকে বেশি ব্যথিত করে এই মৃত্যুগুলো। যারা সারা বছর রাষ্ট্রের কোষাগারে অর্থের জোগান দেয় কিন্তু মরে বিনা চিকিৎসায়। অন্যদিকে সেই কোষাগার লুট করা ব্যক্তিগুলো পায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা।”

“কথিত দেশ প্রেমিক ও জনপ্রিয় নেতারা ক্ষমতায় এসে এই দেশটাকে লুটের রাজ্য হিসেবে তৈরি করেছে। তাদের মূল ঘাঁটি বিদেশে। আমেরিকায়, কানাডায়, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি দেশগুলো। তারা বাংলাদেশকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে হিসেবে ব্যবহার করছে। বাজি ধরে বলি, তিনি বিদেশে যে পরিমাণ সম্পত্তি জমা করেছেন তার সিকি ভাগও কি দেশের জন্য করেছেন? প্রমাণ আছে?”

পরে বিষয়টি অবগত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারাদেশ জারি করে। অফিস আদেশে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে উপযুক্ত কারন দর্শাতে বলা হয়েছে।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জাতীয় চার নেতার পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দিলে ইবি ছাত্রলীগ কাউকে ছাড় দিবে না। সাদিকের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর আমরা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিকে সাদিক বলেন, আমার কিছু ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসন আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে এবং কারণ দর্শানোর জন্য সাত দিন সময় দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরে কারণ দর্শাবো।

ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি নুরুন্নবী সবুজ বলেন, সরকারে গঠনমূলক সমালোচনা করা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে। তবে রাষ্ট্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী কথা বলার অধিকার ছাত্র ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে নেই। প্রত্যেক ব্যক্তির অাত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। আশা করি প্রশাসন তাকে এটার সুযোগ দেবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে আমার শিক্ষার্থীর এমন কুরুচিপূর্ণ ও প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। সে এগুলো কেন বলেছে, কি জন্য বলেছে তার জবাব দিবে। আমরা ছাত্র উপদেষ্টাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে তার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।