ভারত-চীনকে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জাতিসংঘের

১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জুন ১৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক
jati

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারত-চীন সীমান্তের লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে সংঘর্ষের জেরে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি দুদেশকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের পক্ষে তার মুখপাত্র এরিক কানেকো এই আহ্বান জানান।

ভারত-চীন সীমান্তের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় মঙ্গলবার দুদেশের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত হয়েছেন। ভারতের সরকারি সরকারি একটি সূতের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সংবাদসংস্থা এএনআই। লাদাখে দুই দেশের সৈন্যদের মাঝে শারীরিক সংঘর্ষের সময় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এরিক কানেকো বলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত ও চীনের মধ্যে সহিংসতা ও মৃত্যুর খবরে আমরা উদ্বিগ্ন এবং উভয়পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। দুই দেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় ‍যুক্ত হয়েছে এমন খবরকে আমরা ইতিবাচক মনে করছি।

এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভারত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রাণঘাতী মারামারি কখনও হয়নি। অবাক করার বিষয়, এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে হামলা করেছে চীনা সেনা। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সেনারা।

ঘটনার পর পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এ বৈঠকে ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি।

এদিকে ভারত-চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে এই সংঘর্ষে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির কতজন সেনা হতাহত হয়েছে তা প্রকাশ করেনি বেইজিং। যদিও ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ওই ঘট্নায় ৪৩ জন চীনা সৈন্য গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছে।