• আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘স্বাস্থ্য খাতের দুর্দশা সরকারের ধাপ্পাবাজিরই প্রমাণ’- রিজভী

৫:৪২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২০ জাতীয়
rez

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান দুর্দশায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে ধাপ্পাবাজি করেছে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাটছে মানুষের দিন। মানুষ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। করোনা ভীতিতে আচ্ছন্ন দেশের জনগণ। মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থায় জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। ল্যাবে নমুনার স্তুপ জমা হয়ে আছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান দুর্দশায় প্রমাণিত হয়েছে, এই সরকার জনগণের সাথে বছরের পর বছর ধরে ধাপ্পাবাজী করেছে।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭টি জেলাতেই ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট নেই। করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বাস্থ্যখাতের বিপন্ন ও ভঙ্গুর ছবি প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর দেশের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, চলতি মাসেই অর্থাৎ ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকেই জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র (সিসিইউ) এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মোহাম্মদ নাসিমের প্রতিশ্রুতির ঠিক ছয় বছর পর ২০২০ সালে এসেও আওয়ামী সরকারের মুখে সেই একই কথা। একই প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপন করা হবে’। আওয়ামী সরকারের বারবার একইরকম প্রতিশ্রুতি ‘কাজীর গরু কেতাবেই থাকছে, গোয়ালে নেই’-এর মতো।

সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশের গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে গত এক দশক ধরে ক্ষমতাসীন সরকার জনগণকে কথিত উন্নয়নের গল্প শুনিয়েছে। অথচ নির্মম বাস্তবতা হলো উন্নয়নের স্লোগানের আড়ালে গত এক দশকে দেশে দুর্নীতির-অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। এ করোনার প্রকোপের মধ্যেও সরকার দুর্নীতির সংবাদ আড়াল করার জন্য প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে ও হয়রারি করছে। বিরুদ্ধ মত ও দলের গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর তাদের প্রণীত সব কালাকানুন নির্বিচারে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, কেউ আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আর দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে দিলে তাকে তাড়াহুড়ো করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গুম করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করার কারণে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজনকে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো ‘ব্ল্যাক ল’ প্রয়োগের মাধ্যমে গুম, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার এখন মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবের মধ্যেও নিত্যদিনের ঘটনা।