সংবাদ শিরোনাম
সম্মেলন ডেকে হেফাজতের আমির নির্বাচন করা হবে: বাবুনগরী | সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ে ৯ বছরে ৯ বিয়ে! অপেক্ষায় আরও ৪ | ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূত: টিআইবি | চরফ্যাসনে ফার্মেসীতে র‍্যাবের অভিযান, দোকান বন্ধ করে পালাল ব্যবসায়ীরা | ইউএনও ওয়াহিদা ও তার স্বামীকে ঢাকায় বদলি | সবুজপাতা সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপসের উদ্বোধন করলেন রেলমন্ত্রী | ট্রাকচাপায় ছাগল মারা যাওয়ায় চালককে পিটিয়ে হত্যা | হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু | রংপুরে দুই বোনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা | ১৯ বছরেই সফল ডিজিটাল মার্কেটার তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী তুহিন |
  • আজ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডাকসুর দায়িত্বে থাকতে চান নুর-রাব্বানী, ‘অনৈতিক’ বলছেন সাদ্দাম

১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুন ২২, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত বছরের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন। আর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিয়েছিলেন গত বছরের ২৩ মার্চ।

সে অনুযায়ী এ বছরের ২২ মার্চ এক বছর পূর্ণ হয় ডাকসুর বর্তমান সংসদের। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও তিন মাস অর্থাৎ ৯০ দিন বাড়ে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৯০ দিন বর্ধিত সময় অতিক্রম করার পর এ সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে। সে হিসেবে ডাকসুর বর্তমান সংসদ আজ সোমবার (২২ জুন) ভেঙে যাওয়ার কথা। তবে এরপরও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও জিএস গোলাম রাব্বানী।

করোনাভাইরাস সঙ্কটে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এবং ডাকসুর খরচের অডিটসহ বিভিন্ন কাজ বাকি রয়ে গেছে বলে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চান তারা।

যদিও মেয়াদ শেষে পদে থাকাকে ‘অনৈতিক’ বলে মনে করছেন ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন। এ নিয়ে সোমবার ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬-এর (গ) ধারায় বলা আছে, সংসদে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পদাধিকারীগণ ৩৬৫ দিনের জন্য কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না করা যায়, তাহলে কার্যনির্বাহী পদাধিকারীরা অতিরিক্ত ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। ওই ৯০ দিনের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া মাত্র পূর্বতন সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্ধিত ৯০ দিন সময় পার হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংসদ ভেঙে যাবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর বর্তমান সংসদ সোমবার (২২ জুন) ভেঙে যাবে। তবে ডাকসুর ভিপি ও জিএস বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাই পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চান তারা।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধরে আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। এখন সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে। আমরা চাই পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের সুযোগ দেওয়া হোক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন দিয়ে ধারাবাহিতা বজায় রাখা হোক।”

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলে নূর বলেন, “গত ১৪ জুন সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে আমি পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উপাচার্য কোনো উত্তর দেননি। ডাকসুর নির্বাচন নিয়ে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে।”

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, “করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেক কাজই অসম্পূর্ণ রয়েছে। এখনও আমাদের খরচের অডিট বাকি; মাত্র ছয় মাসের অডিট সম্পন্ন হয়েছে। ডাকসুর ফান্ডে ৯০ লাখ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। এই টাকাটা আমরা শিক্ষার্থীদের সহায়তায় খরচ করতে চাই।”

ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুর্যোগকালীন সহায়তা ফান্ড’ গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা ফান্ড কালেকশন করে অনেক শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাই পরিস্থতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত আমাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা নিয়ে আমরা উপাচার্য স্যারের সাথে বসব।”

ভিপি-জিএস দায়িত্ব ধরে রাখতে চাইলেও তাদের সঙ্গে একমত নন ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত করেছে। এখন মেয়াদ শেষ হয়েছে, আমাদের উচিত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে পদ ধরে রাখা অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের চর্চা করে, তারা অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানও বলছেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হবে এবং নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উপাচার্যের একক সিদ্ধান্তে ডাকসু নির্বাচন হয় না। এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এতে অনেক স্টেকহোল্ডার জড়িত । তাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।”