সংবাদ শিরোনাম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় আসামি মাহফুজুর রহমান গ্রেফতার | গাজীপুরে পিবিআইয়ের অভিযানে অপহরণকারী চক্রের  ২সদস্য গ্রেফতার | সিলেট এবং খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদে গাজীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ | শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক | বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলকে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী | ‘শেখ হাসিনার জন্যই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে’- মেয়র তাপস | ‘নভেম্বরে আসতে পারে করোনার ভ্যাকসিন’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী | শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির বাতিঘর ও কাণ্ডারি: শিক্ষামন্ত্রী | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও এইচএসসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী | দেশে ইতিহাস বিকৃতির জনক জিয়াউর রহমান: কাদের |
  • আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনীহায় আটকে আছে রপ্তানি কার্যক্রম

৭:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ২২, ২০২০ অর্থনীতি
panc

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ও ভারতে করোনা বিস্তার রোধে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন ঘোষণার পর থেকে বন্ধ ছিল দেশের সকল বন্দরে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়েও দুই দেশের নাগরিক পারাপার ছাড়া সকল ধরনের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ৭৫ দিন পর ১৩ জুন বন্দরটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।

এর আগে দেশের একমাত্র ৪ দেশীয় এই বন্দরটি চালুর পক্ষে বিপক্ষে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো জেলা। সবশেষ, জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্দরটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেন। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে জেলা প্রশাসন ১৩ টি শর্ত বেঁধে দেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে বন্দরে দৈনিক ১০০ টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

১৩ জুন থেকে আজ (২২ জুন) পর্যন্ত ভারত থেকে ছয়শ’র বেশি ট্রাক পাথর আমদানি করা হলেও সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে তার সিকি অংশ পন্য রপ্তানি হয় নি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে রপ্তানির অপেক্ষায় আটকে রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ৪ টি ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ৩ টি পণ্য বোঝাই কার্গো।

বাংলাবান্ধা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ শামসুল হক বলেন, আমদের পক্ষ থেকে পণ্য পাঠাতে কোন সমস্যা নাই। সমস্যটা হচ্ছে ভারতের দিক থেকে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি কোন চিঠি না দেয়ায় এই ব্যাপারে বিশদ কিছু জানা নেই আমাদের।

তবে তারা যেহেতু পণ্য রপ্তানি করছে আমরাও রপ্তানি করতে পারবো এই ক্ষেত্রে আলাদা কোন নির্দেশনা থাকার কথা না। আর যতটুকু জেনেছি ভারতের সিএন্ডএফ এজেন্ট বলেছেন আমদানিকারকের পক্ষে কোন প্রতিনিধি না থাকায় তারা পণ্য নিতে পারছেন না। কিন্তু আমাদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে আলোচনা ছাড়া ঢাকা থেকে পণ্য পাঠানোর কথা নয়।

বন্দরে আটকে থাকা পণ্যের সিএন্ডএফ এজেন্ট আলাউদ্দিন বাবু জানান, ঠিক কি কারণে ভারতে আমাদের কার্গো যেতে দেয়া হচ্ছে না তা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি আমাদের কার্গো ভারতে গেলে, ভারত থেকে পাথরের ট্রাক আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমাদের পণ্য যেতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম চালকদের প্রদান করলেও বাংলাদেশ অংশেই কার্গো আটকে আছে। কবে কার্গো যেতে দেয়া হবে তা এখনো নিশ্চিত নই।

এই বিষয়ে জানতে পঞ্চগড় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের সহকারী কমিশনার ফাহাদ আল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কলটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, কার্গো আটকে থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। সিএন্ডএফ এজেন্টদের পক্ষে থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শরীফ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম। তাদের কথা অনুযায়ী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই মুহূর্তে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। তবে পঞ্চগড় কাস্টমস এর কর্মকর্তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আগামী শনিবার বা রবিবারের মধ্যে ইতিবাচক কোন সংবাদ আসতে পারে।

পঞ্চগড় আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্টের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু জানায় নি। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। আপাতত দেশের সব বন্দর দিয়ে রপ্তানি বন্ধ আছে। এর আগে বুড়িমারী বন্দর দিয়ে রপ্তানি করতে চাওয়ায় চালুর ৫ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছুই করার নেই, এটা পুরোপুরি সরকারি বিষয়। তারপরেও রফতানি কার্যক্রম যেন চালু করা যায় সেই ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।

পঞ্চগড়ের আমদানি-রপ্তানিকারক ও পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হারুন অর রশিদ বাবু বলেন, আমদানিতে যতটুকু রাজস্ব ঘাটতি হয় রপ্তানি দিয়ে তা পূরণ হয়। রপ্তানি মানে যেহেতু পুরোটাই রাজস্ব, তাই আমদানির পাশাপাশি রপ্তানি জরুরি। নয়তো দেশের বাণিজ্য ও রিজার্ভ ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে।