সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ট্রেনিং নেই, তবুও শায়েস্তাগঞ্জের আব্দুল করিম একজন সফল উদ্যোক্তা

১২:১৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ৮নং ইউনিয়নের কদমতলীর বাসিন্দা আব্দুল করিম একজন সফল উদ্যোক্তা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে কদমতলীতে গড়ে তুলেছেন মদিনা নার্সারি।

আব্দুল করিমের ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। দুই ছেলেই মদিনা নার্সারিতেই কাজ করেন। নিজের জমি না থাকায় জমি বর্গা নিয়ে ৬-৭ একর জায়গায় গড়ে তুলেছেন এক বৃহৎ নার্সারি।

জানা যায়, এটিই হবিগঞ্জের সবচেয়ে বড় নার্সারি। তার নার্সারিতে রয়েছে ফলের মধ্যে থাই পেয়ারা, বারি ফোর মাল্টা, নাসপাতি, আপেল কুল, বাউ কুল, পেয়ারা, আমের কলমি, লিচুর কলমি, আমলকি, বহরা, হরতকি, জামের কলমিসহ প্রায় ৫০-৬০ রকমের কলমি চারা।

এছাড়া ফুলের মাঝে বিশেষ করে রয়েছে, গোলাপ, ড্রাগন ফুল, নাইট কুইন, ক্যাকটাস, গাদাফুল, রজনীগন্ধা, সূর্যমুখীসহ প্রায় ২০০-৩০০ রকমের ফুল। বাহারী এই ফুল-ফলের সমারোহে গড়ে উঠা নার্সারিতে আব্দুল করিম খুঁজে নিয়েছেন নিজের ভবিষ্যৎ। তিনি ৫-৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন এই নার্সারিতে। যেখানে প্রতি মাসে বিকিকিনি হয় ২-৩ লাখ টাকার মতো। এতে প্রতিমাসে তার লাভ হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা।

এই বিষয়ের ওপর আব্দুল করিমের কোন ধরনের ট্রেনিং নেই। নিজের মনোবল আর, বাবার শেখানো কলমি বিদ্যাতেই তিনি পারদর্শী হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার দক্ষ হাতের ছোঁয়ায়, আমগাছে লিচু, লিচু গাছে জাম এর কলমি ডাল গজিয়েছে। মহাসড়কের পাশেই গড়ে ওঠায় সারাদেশের আনাচে-কানাচে মানুষ পাইকারি ও খুচরা দামে ওখান থেকে গাছ কিনে নিয়ে যায়।

আব্দুল করিমের ছেলে জাকির হোসেন জানান, তাদের কাছ থেকে প্রাণ আর.এফ.এল কোম্পানির মত প্রতিষ্ঠান কলমি চারা কিনে নিয়ে তারাও আজ অনেক লাভবান। অনেকেই তাদের চারা কিনে নিয়ে আজ প্রতিষ্ঠিত ফলের ব্যবসায়ী হয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে হাতেকলমে আর কঠোর পরিশ্রমে গড়ে উঠা মদিনা নার্সারিটি। তার নার্সারিতে ৫-৬ জন লোক সবসময় কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে থাকেন।

আব্দুল করিমের স্বপ্ন নিজে জমি কিনে আরো বড় পরিসরে গড়ে তুলবেন নার্সারি। সারাদেশসহ বিদেশেও তার কলমি গাছ রপ্তানি হবে, সেজন্য দরকার সরকারি পৃষ্টপোষকতার। দীর্ঘদিনের নার্সারীর কাজের অভিজ্ঞতায় আব্দুল করিম আজ অনেকের কাছেই একটি অনুপ্রেরণার নাম।

তার নার্সারির সফলতার বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘মদিনা নার্সারির নাম শুনেছি, যদিও নার্সারির সাথে আমাদের সরাসরি কোন সংযোগ নেই। তবে আব্দুল করিম একজন কৃষি উদোক্তা হিসেবে সরকারি সহায়তাসহ, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ নিতে চাইলে তিনি সহযোগিতা করবেন।’