নেসকোর ভুতুড়ে বিলের চাপে দিশেহারা রংপুরের গ্রাহকরা

১২:২৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ নেসকোর গ্রাহকরা। করোনার অযুহাতে মিটার না দেখেই নেসকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ গ্রাহকদের মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছে অতিরিক্ত বিলের বোঝা। এতে করে বিদ্যুৎ অফিসে প্রতিদিন গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে এবং দিনের পর দিন ঘুরে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গ্রাহকদের বাড়তি ভিড় করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন সচেতনরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দ্রুততার সাথে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে নর্দাণ ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো) গঠন করা হয়। নেসকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর আওতায় রংপুর নগরীর অতিগুরুপ্ত পূর্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

এর আওতায় নগরীর মূল অংশে বাসাবাড়ি, অফিস, বিভিন্ন সরকারী- বেসরকারী দপ্তর রয়েছে। নগরীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এ বিদ্যুৎ কার্যালয়ের আওতায়। করোনাকালে ভংগুর অর্থনৈতিক অবস্থায় সরকার বিলম্ব মাশুল ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নির্দেশনা দেয়। করোনা দূর্যোগে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও রংপুরের বিদ্যুৎ বিভাগ উল্টো পথে চলছে।

নেসকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ মিটার রিডিং ছাড়াই প্রত্যেক গ্রাহকদের দিচ্ছে ভুতুরে বিল। সীমিত আকারে চলা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাঝে বিদ্যুৎ বাড়তি বিলের মূল্য পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে গ্রাহকরা। অনেকে ঋণ করে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। অভিযোগের পর সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ অফিসে তাদের ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন। এতে করে সাধারণ মানুষের মূল্যবান কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। করোনাকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ির ভুতুরে বিল গ্রাহকদের মরার উপরে খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেসকো বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ নিয়ে ভিড় করেছেন গ্রাহকরা। করোনাকালে বিলের বোঝায় চাপিয়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বিদ্যুৎ বিভাগ ভূল মিটার নম্বর দিয়ে অনেক গ্রাহকদের উপর বিল চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন। গ্রাহক হয়রানিসহ এ পরিস্থিতির জন্য কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করেন ভুক্তভোগীরা।

রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়ার সাইফুর রহমান বলেন, আমার মিটারে রয়েছে ৮ হাজার ৫০১ ইউনিট আর বিদ্যুৎ বিভাগ ৯ হাজার ৫০০ ইউনিট দেখিয়ে বিল করেছে। এতে করে অতিরিক্ত বিলের বোঝা আমার উপরে চাপিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নির্ধারিত ইউনিট অতিক্রম করলে বিদ্যুৎ বিলের হার বেড়ে যায়। ফলে আমাকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে।

নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বৃদ্ধ কুরবান আলী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খেয়ালখুশি মত অফিস চালাচ্ছেন। গ্রাহকদের ভোগান্তি সমস্যা তারা কর্ণপাত করেন না। সেই সাথে দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন। এতে করে অনেকে কষ্ট হলেও হয়রানির ভয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলই পরিশোধ করছেন। বৃদ্ধ মানুষ হয়েও কারোনাকালে আমাকে বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসে ঘুরতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নেসকো বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাসনাত জামান বিল নিয়ে ত্রুটির কথা স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা নিষেধ রয়েছে। যা বলবে নেসকোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলবেন।