করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করল যবিপ্রবি

১০:১০ অপরাহ্ন | বুধবার, জুন ২৪, ২০২০ সাফল্যের বাংলাদেশ
jaa

মোসাব্বির হোসাইন, যবিপ্রবি প্রতিনিধি: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টার থেকে নিজস্ব জিনোমসিকুয়েন্স মেশিনের সাহায্যে তরুণ শিক্ষক ও গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অন্য কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তিনটি করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিকভবনের গ্যালারিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপকড. মোঃ আনোয়ার হোসেন করোনা ভাইরাসের জীবন রহস্যউন্মোচনের এ ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, জিনোম সিকুয়েন্সগুলোইতিমধ্যে বিশ্বখ্যাত জিনোম ডাটাবেজ সার্ভার জিআইএসএআইডি-তে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানেবিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়ে জিনোমসিকুয়েন্স করেছে, সেখানে অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হলেওনমুনা প্রসেসিং, ভাইরাস শনাক্ত, নিউক্লিক এসিড পৃথকীকরণ থেকেশুরু করে জিনোম সিকুয়েন্স পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্ররা নিজেরাই করেছে। ঢাকার বাইরে এই প্রথম কোনো ল্যাবেকরোনা ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করা সম্ভব হলো।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, নড়াইল, ঝিনাইদহ ওবাগেরহাটে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস থেকে এই জিনোমসিকুয়েন্সগুলো করা হয়েছে। এই সিকুয়েন্সগুলো বাংলাদেশেরদক্ষিণাঞ্চলে সংক্রমিত ভাইরাসের প্রথম জিনোম সিকুয়েন্স, যারমাধ্যমে এই অঞ্চলে সংক্রমিত ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি, তা কোথাথেকে ছড়ালো ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। এই জিনোমসম্পর্কিত বিশ্লেষণ আমাদের গবেষকরা করছেন এবং এ অঞ্চলেরভাইরাসের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ শিগগরিই আন্তর্জাতিকজার্নালে প্রকাশের জন্য পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে এই ল্যাবেমেটাজেনোম করার মাধ্যমে রোগীদের সংক্রমনের তীব্রতার কারণও জানা যাবে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন আরওবলেন, একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে করোনা পরীক্ষারপাশাপাশি জিনোম সিকুয়েন্স করা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্যসাফল্য। আপনাদের মাধ্যমে এই সাফল্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সাহসীযোদ্ধাদের আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এরপাশাপাশি আমি আরও জানাতে চাই, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক অ্যানিমেল হাউস ও গ্রিন হাউসেরতৈরি করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বিএসএল-৩ ল্যাবরেটরি স্থাপনকরে দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধে ভ্যাকসিন তৈরিসহ আরওউচ্চমানের গবেষণা করতে আমাদের গবেষক দল প্রস্তুত রয়েছে।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার আরও জানান, ‘আমার জানা মতেবাংলাদেশের নভেল করোনা ভাইরাসের জিনোম সম্পর্কিত বিষয়ে‘এ’ক্যাটাগরির আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত প্রথম গবেষণাপত্রটিযশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের। এ ছাড়াও, নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেশ কিছু গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকজার্নালে প্রকাশের জন্য রিভিউ পর্যায়ে আছে। করোনা ভাইরাসেরনমুনা পরীক্ষার কাজে অভিজ্ঞ শিক্ষক, গবেষক, বায়োসেফটিট্রেনিংপ্রাপ্ত মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্টবৃন্দস্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করায়, এই ল্যাবে নমুনা পরীক্ষারমান যথেষ্ট উন্নত।’

তিনি বলেন, আমি এবং প্রফেসর ড. মো. আনিছুররহমান যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদানের জন্যযাই, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জিনোম সেন্টারের ভূয়সীপ্রশংসা করেন এবং করোনা ভাইরাস পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ারনির্দেশ দেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যশোর বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস পরীক্ষণ দলের সদস্যরাপালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে আগের চেয়েনমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবালকবীর জাহিদ, ড. মো. নাজমুল হাসান, ড. তানভীর ইসলাম, ড. সেলিনা আক্তার, ড. শিরিন নিগার, ড. হাসান মোহাম্মদ আল-ইমরান, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, প্রভাষ চন্দ্র রায়, এ. এস. এম. রুবাইয়াত-উল-আলম, মো: সাজিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংবাদসম্মেলনে যবিপ্রবির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমারমন্ডল, সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. হায়াতুজ্জামান প্রমুখউপস্থিত ছিলেন।