লামায় এশিয়ান কালো ভাল্লুকের বাচ্চা উদ্ধার

lama
❏ বুধবার, জুন ২৪, ২০২০ চট্টগ্রাম

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা জীনামেজু অনাথ আশ্রমের কাছে পাওয়া গেছে একটি এশিয়ান কালো ভাল্লুকের বাচ্চা।

২৪ জুন সকালে খবর পেয়ে লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ নুরে আলম হাফিজ ভাল্লুকের বাচ্চাটি উদ্ধার করে লামা বন বিভাগে নিয়ে আসে। পরে বিকেলে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার এর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার জানান, কয়েকদিন আগে পাঁচ-ছয় মাস বয়সী দলছুট ওই ভালুকটি ইয়াংছার জীনামেজু আশ্রমের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় কয়েকটি কুকুর সেটিকে তাড়া করে। তাড়া খেয়ে ভাল্লুকের বাচ্চাটি গাছে উঠে যায়। পরে আশ্রমের ভান্তে(ধর্মগুরু) ভাল্লুকের বাচ্চাটি গাছ থেকে নামিয়ে আশ্রমের হেফাজতে রাখে। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন আশ্রমে গিয়ে ভাল্লুকের বাচ্চাটিকে নিজেদের উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ভাল্লুকের বাচ্চাটি ভালো আছে। তাকে ভাত ও মিষ্টি কুমড়া খেতে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৫টায় ভাল্লুকের বাচ্চাটিকে কক্সবাজারের চকরিয়াস্থ ডুলহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ভাল্লুকের ছানাটি বুঝে নিয়ে সাফারী পার্কে নিয়ে যান।

এদিকে লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ নুরে আলম হাফিজ বলেন, ভাল্লুকের ববাচ্চাটি যেহেতু দলছুট হয়ে গেছে তাই বনে ছেড়ে দিলে বিপদে পড়তে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার তাদের রেড লিস্টে এশিয়ান কালো ভাল্লুককে ‘ভালনারেবল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে এরা এখনও টিকে আছে। তবে অব্যাহতভাবে বন ধ্বংস হওয়ায় এশিয়ান কালো ভাল্লুক গুলো বাসস্থান ও খাদ্য সঙ্কটে পড়ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর তফসিল মতে এটি সংরক্ষিত প্রাণী। এটি আহরণ ও সংরক্ষণ অবৈধ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন