গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডি কিটের নিবন্ধন দিচ্ছে না ওষুধ প্রশাসন

১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ অ্যান্টিবডি কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর (ডিজিডিএ) থেকে নিবন্ধনের অনুমতি পাচ্ছে না।

নূন্যতম গ্রহণযোগ্য মান না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন। তবে পরবর্তীতে এই কিটের উন্নয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সভা গত ২১ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউএস এফডিএ-এর আম্ব্রেলা গাইডলাইন অন সেরোলজিক্যাল টেস্ট এবং আন্তর্জাতিক গাইডলাইনের আলোকে র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট (IgG+IgM এবং IgG) এর সেনসিটিভিটি ও স্পেসিফিকেশন সর্বনিম্ন লেভেলে যথাক্রমে ৯০ শতাংশ ও ৯৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু গণস্বাস্থ্যের কিটটির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রাপ্ত সেনসিটিভিটি ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং স্পেসিফিকেশন ৯৬ শতাংশ। সেনসিটিভিটি গ্রহণযোগ্য মাত্রার নিচে হওয়ায় কমিটি গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত কিটটির রেজিস্ট্রেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস ধরে গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শেষে গত ১৬ জুন ওষুধ প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় বিএসএমএমইউ। এর ৯ দিন পর ২৫ জুন ওষুধ প্রশাসন জানাল গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডি কিট কার্যকরী নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা শনাক্তে র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট উদ্ভাবনের পর ২৬ এপ্রিল তা হস্তান্তরের আয়োজন করে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান তা গ্রহণ করতে যায়নি।

এই কিটের অনুমোদন দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সরকারের ওষুধ প্রশাসন। তখন তারা বলেছে, সিআরও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (মধ্যস্বত্বভোগী) কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার পর তা তারা অনুমোদন দেবে। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সিআরও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন না। তিনি সরকারের বিএসএমএমইউসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করাতে চান। তবে ওষুধ প্রশাসন বলে আসছিল, সিআরও প্রতিষ্ঠান ছাড়া কিটের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ নেই।

এ রকম পরিপ্রেক্ষিতে নানা আলোচনা-সমালোচনার একপর্যায়ে ওষুধ প্রশাসন বিএসএমএমইউতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তাদের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমোদন দেয় ২৯ এপ্রিল।

অনুমোদনের বেশকিছু দিন পর গণস্বাস্থ্য কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু হয় বিএসএমএমইউতে। এর মধ্যে গত ২ জুন যথাযথভাবে লালা সংগ্রহ সম্ভব না হওয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের দুটি অংশ অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন্টের মধ্যে অ্যান্টিজেন্টের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে বিএসএমএমইউকে চিঠি দেয় তারা। তবে লালা সংগ্রহের জন্য নতুন একটি ডিভাইস উদ্ভাবন করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সম্প্রতি তা বিএসএমএমইউর কাছে জমা দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

আর অ্যান্টিবডি কিটের ফলাফল পাওয়ার ৯ দিন পর ওষুধ প্রশাসন জানাল, তারা এটার নিবন্ধন দেবে না।