• আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভারতের পানি আটকে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার ভুটানের

১০:১০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক
vutan

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে চীন ও নেপাল সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে ভারতের। পরিস্থিতি এমন যে পুরো ভারতের মনোযোগ এখন লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষ কিংবা নেপালের ভারতীয় এলাকা অন্তভূর্ক্ত করে মানচিত্র প্রকাশের দিকে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, আসামের কৃষকদের সেচের পানি বন্ধ করেছে ভুটান। আর এ খবরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা বলে দাবি করেছে দেশটি।

আসামের বাকসা জেলার চাষিদের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে, মিত্র দেশ ভুটান তাদের সেচের পানি আটকে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন আসামের গরিব চাষিরা। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা।

সেই ১৯৫৩ সাল থেকে আসামের বাকসা জেলায় একটি সেচ চ্যানেল দিয়ে কৃষকদের পানি দিত ভুটান। সেই পানি দিয়ে চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ হয় প্রায় ২৬ গ্রামের চাষিদের। হঠাত্ই সেই পানি দেওয়া বন্ধ করে দেয় ভুটান। মাথায় হাত চাষিদের। কীভাবে মিটবে এই সমস্যা, তা নিয়ে কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না তারা। বাকসার জেলা প্রশাসনও বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা বিষয়টি নিয়ে ভুটানের কাছে প্রতিকার চেয়েছে।

লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পুয়াধারার মতো সীমান্তের বিতর্কিত এলাকাগুলোকে নেপাল নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জেরে দিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। এখন তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গন্ডক ব্যারাজ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভুটানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অসমের কৃষকদের সেচের পানি আটকায়নি তারা। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার চক্রান্ত চলছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) এক বিবৃতিতে দেশটির বিদেশ মন্ত্রনালয় জানায়, ২৪ জুন থেকে ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে আসামের কৃষকদের সেচের পানি আমরা আটকেছি। সমস্যায় বাক্সা আর উদালগুড়ির কৃষকরা। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ অভিযোগ। তাই বিদেশ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করতে চায় এই ধরনের সংবাদ ভিত্তিহীন এবং ভুটানের পানি বন্ধ করার মতো কোনও কারণ নেই।

এছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুটান ও অসমের বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানে ফাটল ধরার চেষ্টায় এই উদ্যোগ এমন অভিযোগ করেছে ভুটানের বিদেশ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাতে আসামের মুখ্যসচিব কুমির সঞ্জয় টুইট করে বলেন, এই প্রতিবেদন অসত্য। প্রাকৃতিক কারণে পানি বন্ধ হয়েছে।

এদিন জারি করা বিবৃতিতে ভুটান সরকার জানায়, বহুযুগ ধরে বাক্সা আর উদালগুরি আমাদের পানি পেয়ে সমৃদ্ধ। আগামি দিনেও সেই পানি পাবে। এমনকী, এই করোনা সঙ্কটের মুহূর্তেও সেই পানি পেয়েছে।