নমুনা পরীক্ষায় বড় সংকটের ঝুঁকিতে রংপুরের ৮ জেলা, নেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা

১:২১ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ২৭, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- রংপুর বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনা প্রতিরোধে পুরো রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই।

সোয়া কোটি জনসংখ্যার এ বিভাগে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার ৪শ’ জনের। এরমধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৯৬ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪৬ জন। অন্যদিকে মাত্র পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে ফলে দেড় হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষার জন্য পড়ে আছে।

অন্যদিকে, রংপুর জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮শ’ ছাড়িয়েছে তারপরেও এলাকাভিত্তিক লকডাউনের কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জেলা প্রশাসন। সামাজিক দুরত্ব মানার কোন লক্ষণ নেই অনেকেই। এছাড়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত হবার পরেও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান, কিন্তু আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করার কোন পদক্ষেপ নেই।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের ১১২দিন চলছে। এরমধ্যে রংপুর বিভাগে করোনা পজেটিভ হয়েছে শুক্রবার পর্যন্ত ২ হাজার ৪৯৬জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রংপুরে ৮৩৫ জন, পঞ্চগড়ে ১৩২ জন, নীলফামারীতে ৩২৫ জন লালমনিরহাটে ৮৮ জন, কুড়িগ্রামে ১২৯ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯৬ জন, দিনাজপুরে ৫৫৫ জন এবং গাইবান্ধায় ২৩৬ জন। এ পর্যন্ত যে মারা গেছেন ৪৬ জন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রংপুরে ১৫ জন। এছাড়া পঞ্চগড়ে ৩ নীলফামারীতে ৬ জন, নীলফামারী ১ জন লালমনিরহাটে ১, ঠাকুরগাঁওয়ে ২। দিনাজপুর ১০ এবং ঠাকুরগাঁয়ে ৮ জন।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় করোনা সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষার জন্য মাত্র ২টি পিসিআর ল্যাব আছে। এর একটি দিনাজপুরে সেখানে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার অধিবাসীদের করোনা নমুনা পরীক্ষা হয়।

অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনসহ পুরো জেলা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার অধিবাসীদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দুটি পিসিআর ল্যাবের ক্ষমতা ১৮৮টি করে। ফলে সোয়া কোটি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে দুটি ল্যাব দিয়ে। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ নমুনা পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন দফতরে ধর্ণা দিয়েও পরীক্ষা করাতে পারছে না।

ওই কর্মকর্তা জানান, এভাবে চললে রংপুর বিভাগের নমুনা পরীক্ষা করাতে ২৫ বছরেরও বেশি লাগবে। ফলে এখন যাদের করোনা পজেটিভ হয়েছে পিসিআর মেশিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে এর সংখ্যা দশগুণ বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনার কথা জানান ওই কর্মকর্তা। বারবার বলা সত্ত্বেও নমুনা পরীক্ষার জন্য এখনো রংপুর নগরীতে কোন বুথ খেলা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ জানে না কোথায় নমুনা পরীক্ষা করাতে হয়।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা, কামরুজ্জামান তাজ জানান, নগরীতে করোনা সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত আক্রান্ত ৮৩৫ জনের মধ্যে ৭শ’ জনেরও বেশি রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার। রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৩টি ওয়ার্ডে লোকসংখ্যা ১২ লাখ হলেও এখন পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার মানুষ করোনা পরীক্ষা করাতে সক্ষম হয়েছেন, তার মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৭শ’ ছাড়িয়েছে।

এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি করোনা পজেটিভ রোগী রয়েছে যাদের সংখ্যা ১৩৫ জন। এছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৩ জন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৯ জন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২ জন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ জন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৬ জন, এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪ জন। তবে নগরীর ৮টি ওয়ার্ডে একজনও কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগী নেই, আবার ৯টি ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ১ থেকে ৩ জন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ওয়ার্ডে নমুনা পরীক্ষা করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, প্রশাসনকে বলেও নমুনা পরীক্ষার বুথ স্থাপন করানো যায়নি। তাতেই আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বেড়েছে সব ওয়ার্ডে পরীক্ষা করালে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার। রংপুরের জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন কয়েকদফা সভা করে নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত লকডাউন করার কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন পরস্পর বিরোধী কথা বলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেছেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় লকডাউন কার্যকর করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।

অন্যদিকে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলছেন, আমি প্রশাসনকে কঠোরভাবে লক ডাউন কার্যকর করার কথা বলেছি সব ধরনের সহায়তার কথা নাকি বলেছেন তিনি।

এছাড়াও নগরীর কোন মার্কেট শপিং মল সামাজিক দুরত্ব মানছেনা নেই কোন সংক্রমন প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা। একইভাবে নগরীতে যানবাহন চলাচলে কোন নিয়ন্ত্রন নেই প্রশাসনের।

এদিকে রংপুর নগরীর চাউল আমোদ এলাকায় ডা, আহসান হাবিব করোনা পজিটিভ হবার পরেও পরপর ৫দিন চেম্বারে বসে রোগী দেখেন, কিন্তু  প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকাবাসী তাকে চেম্বার থেকে বের করে দিয়ে লকডাউন করে দিয়েছে তার চেম্বার। একইভাবে সুপার মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী করোনা পজিটিভ হলেও তাদের ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের।