ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের নামে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে সরকার: রিজভী


❏ শনিবার, জুন ২৭, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলের মাধ্যমে সরকার সিরিঞ্জ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।

রিজভী বলেন, “বাড়িতে বাড়িতে বহু লোক আমাদেরকে বলছেন, যেখানে বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা। সেখানে ২০ হাজার-২৫ হাজার টাকা বিল আসছে। এই ভূতড়ে বিলের জন্য গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, সরকারের এদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।

“তারা নির্লজ্জভাবে গায়ের জোরে বছরে কয়েকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে। এখন সিরিঞ্জে করে যেমন রক্ত টান দেয়, জনগণের শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত টান দিচ্ছে।”

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, “তাদের (সরকার) টাকা দরকার। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে জানেন? এটাও গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে. ৫ হাজার কয়েকশ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে জমা আছে। এই টাকা কার? এই টাকা মন্ত্রীদের, এই টাকা আমলাদের, এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকদের।

“আজকে ১১ থেকে ১২ বছর জনগণের এই টাকা আত্মসাৎ করে সুইস ব্যাংক ফুলে-ফেঁপে একেবারে বিশাল মহিরুহে পরিণত করেছে তারা। এখন আরও টাকা দরকার, সুইস ব্যাংকে আরও কালো টাকা পাঠাতে হবে- এই লক্ষ্য নিয়ে বছরে কয়েকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম তারা বৃদ্ধি করছে।”

করোনাভাইসরাস পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে ওঠার কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “মানুষ মরছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই, অক্সিমিটার নেই, চিকিৎসা নেই ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া। অত কথা হয়ত গণমাধ্যমে আসছে, কিন্তু সব আসছে না।

“হাসপাতালে গিয়ে করোনা রোগী কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না। কারণ ওরা জনগণকে সুবিধা দেওয়া, জনগণের কষ্ট লাঘব করার কোনো কাজ তারা করেনি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত ভেঙে গেছে, একেবারে ভঙ্গুর। মানুষ এখন কুকুর-বিড়ালের মতো রাস্তায় মারা যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সম্রাটের মতো’ দেশ শাসন করছেন বলেও এসময় মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন